মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়াকে রংপুর সামাজিক বন বিভাগে বদলি করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আদেশ দিয়েছে—এ তথ্য গত সোমবার সিলেট বিভাগের বন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। বদলি আদেশটি স্থানীয়ভাবে তীব্র বিতর্ক ও জনসাধারণের আক্রোশের প্রেক্ষিতে আসা বড় একটি পদক্ষেপ বলে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
কয়েক সপ্তাহ আগে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানের সময় প্রায় ১ হাজার ২০০ ফলন্ত কমলা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, এমন অভিযোগ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার কারণে প্রশাসনিক মনোযোগ টানা পড়ে। স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা ক্ষতির পরিমাণ ও দায়িত্ব নির্ধারণ চেয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সরকারি ব্যবস্থা ও তদন্ত কমিটি
এই ঘটনার পর গত ২২ জুলাই সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনায় একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান এবং সদস্য ছিলেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহিনা আক্তার ও সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. নাজমুল আলম।
“পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আদেশে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ কয়েকজনকে একযোগে বদলি করা হয়েছে,”
এই বিবৃতি সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান মঙ্গলবার আমাদের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি তদন্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত বা বদলির পেছনের সরাসরি কারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত কিছু জানাননি।
তদন্ত প্রতিবেদন কেন এখনও প্রকাশ হয়নি
গঠন করা কমিটি থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা তদন্ত প্রতিবেদন দলিলভিত্তিকভাবে প্রকাশ করে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। প্রশাসনিক জটিলতা, নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য সংগ্রহসহ কয়েকটি কারণে প্রতিবেদন বিলম্বিত হতে পারে—তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রভাব ও কৃষকদের ক্ষতি
প্রতিবেদনভিত্তিক হিসাব না মেলায় কেবলমাত্র কাটা গাছের সংখ্যাই কেন্দ্রীয় অভিযোগ নয়; তা স্থানীয় কৃষক সমাজের আয়ের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। ফলন্ত গাছ কাটা ফলে দুই-মুখী ক্ষতি: অব্যাহত ফলন থেকে আয় হারানো এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয়। স্থানীয়রা জানতে চান—কীভাবে ও কেন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলো এবং এর আগে বা পরে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না।
প্রাসঙ্গিক সময়রেখা
| তারিখ/পর্ব | ঘটনা |
|---|---|
| প্রকাশিত প্রতিবেদন | ডিবিসি নিউজে কমলা গাছ কাটার সংবাদ প্রকাশ |
| ২২ জুলাই | উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন |
| সাম্প্রতিক | রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়ার বদলি—রংপুর সামাজিক বন বিভাগে |
| বর্তমান | তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ হয়নি |
আগামী করণীয় ও দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা প্রয়োজনীয় নথিভুক্ত প্রমাণসহ তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা দাবি করছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের বিষয় ও কাটা গাছের প্রকৃত মালিকানা-হিসাব নিরূপণের দাবি উঠেছে।
- তদন্ত কমিটির চতুর্থপ্রান্তিক উপসংহার প্রকাশ করে উত্তরদায়িত্ব নির্ধারণ করা।
- ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা।
- ভবিষ্যতে অননুমোদিত কাটায় রোধে বন প্রণালী ও স্থানীয় জ্ঞানের সমন্বয় বাড়ানো।
এই ঘটনার পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব যথেষ্ট বড়—তাই স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে ঘটনা ও তদন্তের স্বচ্ছতা ও দ্রুততার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমায় প্রতিবেদন প্রকাশের নিশ্চয়তা। মৌলভীবাজার জেলা থেকে পরিবেশ সংবাদদাতা ঝর্ণা বিশ্বাস রিপোর্ট করেছেন।