কেন এই দায়িত্ববণ্টন জরুরি বলা হচ্ছে
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার জন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের দায়িত্ব বণ্টন করেছে। এ তালিকায় মৌলভীবাজার জেলা দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিটি হলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও হুইপরা নিজ নিজ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণসহ সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।
সিলেট বিভাগে কে কোন জেলার দায়িত্ব পেলেন
| জেলা | দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/হুইপ |
|---|---|
| মৌলভীবাজার | আরিফুল হক চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী) |
| হবিগঞ্জ | খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী) |
| সিলেট ও সুনামগঞ্জ | আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ (জাতীয় সংসদের হুইপ) |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন দায়িত্ববণ্টন সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে স্বীকৃত দায়িত্ব পেলে জেলা পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি ও দোষত্রুটি যাচাই-বাছাই আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আশা করা হচ্ছে, মাদকবিরোধী অভিযান, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহি ব্যবস্থা মজবুত হবে।
অপরদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঠিক এবং নিয়মিত তদারকি ছাড়া কেবল দায়িত্ববণ্টনই পর্যাপ্ত হবে না বলে প্রকাশ্যে সতর্কতাও দেখা গেছে। প্রশাসনিক কর্মশৈলী, স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রীদের মধ্যে সমন্বয়ই প্রকল্প এবং নীতির ফলপ্রসূ বাস্তবায়নের মূল কুশীলব বলে অনেকে মনে করেন।
মৌলভীবাজারের কী চাহিদা সামনে আসে
- শ্রম ও কর্মসংস্থান বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ ও দক্ষতাবিকাশ প্রকল্পের প্রয়োজন।
- প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত সেবা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানে প্রতারণা রোধে তদারকির অব্যাহত প্রয়োজন রয়েছে।
- আইনশৃঙ্খলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রীর সমন্বয় চাওয়া হচ্ছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা কতটুকুকালের জন্য ওই জেলার তদারকি করবেন। তবু প্রশাসনিক হিসেব থেকে এই পদক্ষেপকে জেলা পর্যায়ে সরকারী কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয় জোরদার করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
“দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও হুইপরা সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন” — মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের ভাষা।
মৌলভীবাজারে এই নতুন দায়িত্ববণ্টনকে কেন্দ্র করে এখন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কী ভাবে এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নের কাঠামোয় আনা হবে, তা নজরদারি করার অবস্থান নিচ্ছে। স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিক নিরাপত্তা দৃঢ় করতে কেন্দ্র-জেলা-স্থানীয় স্তরের সমন্বয়ই মূল চ্যালেঞ্জ হবে বলে অভিমত সকালের আলোচনা থেকে পড়ে।
অধিকতর তথ্য ও পৃথক বিবৃতির জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আনুষ্ঠানিক নথি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার প্রতীক্ষায় স্থানীয় মহল আছে।