মৌলভীবাজারে জেলা জামায়াতের আয়োজিত ইউনিয়ন দায়িত্বশীল শিক্ষা শিবির ও কর্মশালায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, জুলাই রক্তাক্ত ঘটনাগুলোর পর একটি কল্যাণকর ও ইনসাফভিত্তিক নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দলটি এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের মেধা ও প্রজ্ঞায় আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে বলেছেন।
কর্মশালার আয়োজন ও উপস্থিতি
শুক্রবার ২১ আগস্ট সকালে মৌলভীবাজার পৌরসভা কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এই দিনের কর্মশালায় জেলার ৬৭ ইউনিয়নের সভাপতি ও সেক্রেটাররা অংশ নেন। জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মো: শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে শিবিরের উপস্থাপনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো: ইয়ামীর আলী।
শিবিরে ‘আদর্শ সংগঠকের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মো: ফখরুল ইসলাম এবং দারস পেশ করেন আলেমে দ্বীন মাওলানা শেখ আব্দুল হক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদ তালুকদার, আজিজ আহমদ কিবরিয়া, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, সৈয়দ তারেকুল হামিদ ও আব্দুল কুদ্দুস নোমান সহ আরও অনেকে।
মাওলানার বক্তব্যের মূল সুত্র
“জুলাই রক্তাক্ত বিপ্লবের পর একটি কল্যাণকর ও ইনসাফ ভিত্তিক নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জামায়াত এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণ জামায়াতকে সরকারি দলের আসনে দেখতে চায়। আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনায় দায়িত্বশীলদের মেধা ও প্রজ্ঞায় আরো সমৃদ্ধ হয়ে তৈরি হতে হবে।”
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সংগ্রামের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে জেল-জুলুম ও নেতৃবৃন্দের ফাঁসি দিয়ে সংগঠনের গতিপথ স্তব্ধ করা যায়নি এবং হাজারো শহীদের রক্তে গড়া এই সংগঠন দিনকে দিন সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন যে, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্তি নিশ্চিত করতে পারলে দেশের অগ্রগতি দ্রুত হবে এবং আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সৎ, যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন প্রার্থীকে সমর্থন দেবে—একটি বার্তা দিলেন দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও সংগঠনের কৌশল
কর্মশালায় উপরোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইউনিয়ন স্তরের কর্মীদের কার্যকর ভূমিকায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা যায়। স্থানীয় পর্যায়ে সংহত নেতৃত্ব তৈরিই এ ধরনের কর্মশালার মূল লক্ষ্য—যা ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানে আলাপ-আলোচনার পাশাপাশি ধর্মীয় পাঠ-দানসংশ্লিষ্ট সেশনও ছিল। মাওলানা শেখ আব্দুল হক মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা আল মুমিনুন থেকে দারস দেন। এ বিষয়গুলো স্থানীয় নেতাদের মনোবল বৃদ্ধিতে অংশ রাখে।
- সময় ও স্থান: ২১ আগস্ট, মৌলভীবাজার পৌরসভা কনফারেন্স হল
- প্রধান অতিথি: মাওলানা আব্দুল হালিম
- অংশগ্রহণকারী: জেলার ৬৭ ইউনিয়নের সভাপতি ও সেক্রেটারি ও জেলা নেতৃত্ব
| পদবি | নাম |
|---|---|
| জেলা আমীর (সভাপতি) | ইঞ্জিনিয়ার মো: শাহেদ আলী |
| জেলা সেক্রেটারি (উপস্থাপক) | মো: ইয়ামীর আলী |
| কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য (আলোচক) | মো: ফখরুল ইসলাম |
শিবিরে অংশ নেওয়া নেতারা জানান যে, ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। তবে কর্মশালায় উত্থাপিত বক্তব্যগুলো মূলত অভ্যন্তরীণ সংগঠন সম্মিলিত প্রস্তুতি ও নৈতিক দিক থেকে সদস্যদের শিক্ষায় কেন্দ্রীয় ছিল।
মাওলানার বক্তব্যে এক ধরণের সার্বিক রাজনৈতিক বার্তা পাওয়া গেছে—দলীয় সংগঠন ও নেতৃত্ব প্রজন্মান্তরে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে গেলে স্থানীয় স্তরে গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। তিনি মিথ্যা অভিযোগ ও অতীতের জুলুম সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন, আজকের জনগণ ভুল-ই স্বীকার করছে এবং ভবিষ্যতে সরকারের যে নীতিগত ভুলগুলো জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করবে সেগুলো সমাজ প্রত্যাখ্যান করবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের কর্মশালা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন ভবিষ্যৎ স্থানীয় নির্বাচন ও সংগঠনের ভূমিকা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে—এ বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মোহল্লা পর্যায়ের জনগণের নজরে থাকবে।