প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগ
মৌলভীবাজারে শীতকালীন চা মৌসুমে ট্রাফ হাউজে কাঁচা পাতার প্রক্রিয়াজাতকরণে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। জেলার মোট ৯৩টি চা বাগানকে কেন্দ্র করে পরিচালিত সংবাদ সংগ্রহে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ মেলে গড়ে ১৫ ঘণ্টা এবং অবশিষ্ট সময়ে কারখানা চালু রাখতে জেনারেটর ও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাগানগুলোতে প্রতিদিন বহু কেজি কাঁচা পাতা নষ্ট হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কারখানা, শ্রমিক এবং ব্যবস্থাপনার বক্তব্য
রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ট্রাফ হাউজে দীর্ঘ সময় কাঁচা পাতা পড়ে থাকায় সেটি ব্যবহার উপযোগী থাকে না। একাধিক কারখানার শ্রমিকরা জানান, বিদ্যুৎ গেলে বিকল্প প্রযুক্তি চালু করতে এক ঘণ্টা সময় লাগে এবং এই সময় অপচয় হতে থাকে। কারখানার শ্রমিকরা আরও জানান, ঘনঘন বিভ্রাটের ফলে যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
“একবার বিদ্যুৎ গেলে বিকল্প প্রযুক্তিতে কারখানা চালু করতে এক ঘণ্টা সময় লাগে। এতে সময়ের অপচয় হয়,”
— রাজনগরের ইটা চা বাগানের একজন শ্রমিক আকাশ হোসেন।
কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিক রামগোপাল গৌড় জানান, তারা বিদ্যুৎ ভাঙাকে প্রতিদিনই অনুভব করছেন এবং ওই সময় কারখানা চালু রাখতে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এসব কারণে কারখানার স্থায়ী খরচ বেড়ে গেছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য ক্ষতি
চা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন ট্রাফ হাউজে রাখাসহ প্রক্রিয়াজাত না করার ফলে প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে। যদি এই অবস্থা দীর্ঘমেয়াদী হয়, তাহলে জেলার মোট ক্ষতি এককালীন নয়—বড় ধরনের ধস নেমে যেতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল টি কোম্পানির ডিএমজি মো: রফিকুল ইসলামও একই ধরনের বিদ্যুৎ জটিলতার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাগানগুলোর অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ
করিমপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমদ বলেন, সবুজ পাতা সময়োপযোগীভাবে প্রক্রিয়াজাতে না নিলে গুণগতমান হারায় এবং চূড়ান্ত পণ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর প্রধান কারখানা করণিক মো: জামাল উদ্দিনও উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাফ হাউজে দীর্ঘ সময় কাঁচা পাতা রাখলে তা নষ্ট হয়ে যায় এবং ফেলে দিতে বাধ্য হতে হয়।
- ঝুঁকি: গুণগতমানহীন চা উৎপাদন ও বাজারে মূল্য কমে যাওয়া।
- খরচ বৃদ্ধি: জ্বালানিতে অতিরিক্ত ব্যয় ও যন্ত্রপাতি ত্রুটির কারণে মেরামত খরচ।
- চাকরি ও আয়: নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদন ব্যাহত হলে শ্রমিক ও মালিক উভয়ের আয় কমতে পারে।
সমাধানের পথে কী করা যেতে পারে
বর্তমান সংবাদ সূত্রে সরাসরি কোনো প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া বিস্তারিত না থাকলেও, স্থানীয় মালিকপক্ষ ও কারখানা প্রতিনিধিদের দাবি—নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে অবিলম্বে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থায় জেনারেটর ও ডিজেলের ওপর অতিরিক্ত ভর না দিয়ে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বা বড়জোর সিচুয়েশনাল স্টোরেজ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কৌশল নেয়া যেতে পারে।
| আইটেম | সূত্রভিত্তিক তথ্য |
|---|---|
| প্রভাবিত বাগান | ৯৩টি |
| দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ (গড়) | ১৫ ঘণ্টা/২৪ ঘণ্টা |
| দৈনিক সম্ভাব্য ক্ষতি | ২–৩ লাখ টাকা |
| জেনারেটর চলাতে ডিজেল ব্যবহার | ১০০–২০০ লিটার/দিন (কিছু কারখানা) |
চূড়ান্তভাবে, মৌলভীবাজারের চা খাতকে রুষ্টগত ও অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য। যদি অবস্থা এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে জেলার অর্থনীতির এক বড় অঙ্গ—চা শিল্প—দীর্ঘ-মেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎসকে দুর্বল করবে।