মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি দাবিতে আয়োজিত র্যালির সময় চা শ্রমিকদের ওপর সহকর্মী কিছু নেতার হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ফলে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে এবং মধ্যে কয়েকজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
ঘটনার ক্রম
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে উপজেলা শহরের চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়। র্যালি শেষে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা থেকে ডিডিএল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। র্যালির জন্য পুলিশ থেকে অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন।
তবে র্যালি কার্যালয়ের সামনে এলেই বিপরীত পাশে থেকে কিছু নেতাকে তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং পরে গ্রুপ করে ধরDhরার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের ধরা-ধাওয়া করে ইউনিয়নের গেটে নিয়ে সেখানে মারধর করা হয়েছে।
“চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা আমাদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করেন। এর আগেও একবার আমাদের ওপর হামলা হয়েছে… যদি ন্যায্য মজুরি দাবি করা অপরাধ হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন চলবে,”
এই অভিযোগ করেন চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানি কানু।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য
অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে চা শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি বলেন, মানববন্ধন শেষে একটি পক্ষ কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও গালিগালাজ করে। তিনি জানান, ওই সময় ইউনিয়নের কিছু নেতারা ভবনের উপরের তলায় কর্মসূচি করছিলেন; পরে নিচে নামলে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। পরেশ কালিন্দি আরও বলেন, কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুরের কোনো ভিডিও ফুটেজ নেই।
অন্য এক আন্দোলনকারী নেতা আকাশ দোষাদ বলেছেন, প্রথমে নেতা দুলাল হাজরা ব্যানার ছিঁড়ে দেন। পরে পরেশ কালিন্দি ও সুবাস রবিদাস আন্দোলনকারীদের ধরে নিয়ে যান। তিনি বলেন তাদের কাছে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে এবং ঘটনার সময় পুলিশ থাকলেও কোনরূপ সুরাহা করেনি।
আহত ও চিকিৎসা
আহতদের মধ্যে জনকলাল দেশোয়ারা, রাধামোহন নুনিয়া ও গীতা রানি কানুকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে—এ তথ্য আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, আহতদের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ১০–১২ জন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- আহতদের মধ্যে হাসপাতালে পাঠানো: জনকলাল দেশোয়ারা, রাধামোহন নুনিয়া, গীতা রানি কানু
- আন্দোলনের দাবি: দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা
- স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
প্রশাসন ও পুলিশ ব্যাখ্যা
শ্রীমঙ্গল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, এ ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে পুলিশের কি ধরণের ভূমিকা ছিল এবং কেন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি—এসব বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য তাঁরা এখনও করেননি।
রামপুরে কী প্রভাব পড়তে পারে?
চা শ্রমিক সংগঠনগুলোর ভেতরে এই ধরণের সংঘাত স্থানীয় শ্রম আন্দোলনের ধারাকে প্রভাবিত করতে পারে। একই দাবিতে একপর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত শ্রমিকদের ঐক্যহীনতা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। আন্দোলনের মুখপাত্ররা দাবি করেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের অধিকার তাদের রয়েছে এবং সহিংসতার জবাবদিহি চায় তারা।
পরবর্তী করণীয়
ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন আন্দোলনকারী বলছেন, তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে বলেও জানিয়েছেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দাবি | দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা |
| অবস্থান | চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার |
| আহত | প্রাথমিকভাবে ১০–১২ জন (কয়েকজনকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে) |
| পুলিশ | শ্রীমঙ্গলে ঘটনাটি তদন্ত করছে (ওসি নিশ্চিত করেছেন) |
ঘটনাটি গ্রহণযোগ্য ভাবে তদন্ত না হলে স্থানীয় শ্রম সম্পর্কিত গোলযোগ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এ মন্তব্য স্থানীয় ন্যায়িক ও কর্মী প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আমরা শ্রবণ করতে পাইনি। বর্তমানে প্রশাসন ও পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে; অনুরোধ করা হয়েছে যে দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই প্রতিবেদনের জন্য স্থানীয় নেতা-কর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পাঠানো বক্তব্যগুলোর সত্যতা যাচাই করা হয়েছে এবং অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য উভয় পক্ষের কথাই এখানে প্রতিফলিত করা হয়েছে।