অপরাধ জুড়ী মৌলভীবাজার (52)

জুড়ীর সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স অনুপলব্ধ, চালক সিভিল সার্জনের ব্যক্তিগত গাড়ি চালাচ্ছেন: জনস্বার্থে উদ্বেগ

প্রায় নয় মাস ধরে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স চালককে জেলা সিভিল সার্জনের দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চালাতে দেখা যায়। ফলে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয়রা সরকারি সেবার অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

জুড়ীর সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স অনুপলব্ধ, চালক সিভিল সার্জনের ব্যক্তিগত গাড়ি চালাচ্ছেন: জনস্বার্থে উদ্বেগ
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বরাদ্দ একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সটি দীর্ঘদিন ধরে তৎপর নয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই অ্যাম্বুল্যান্সের চালককে জেলা সিভিল সার্জন দপ্তরের দাপ্তরিক গাড়ি চালানোর কাজে নিয়োজিত রাখা হচ্ছে।

জরুরি সেবার বিঘ্ন ও রোগীর কষ্ট

অ্যাম্বুল্যান্সটি মূলত মুমূর্ষু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর বা সিলেটে স্থানান্তরের জন্য বরাদ্দ। তবে চালক না থাকায় প্রায় নয় মাস ধরে জরুরি পরিবহন পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন কালাম বলেছে, সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স না মেলায় জরুরি মুহূর্তে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করতে হচ্ছে, যা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন।

সিভিল সার্জনের অবস্থান ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, জুড়ীতে অ্যাম্বুল্যান্সের সেবা ও প্রয়োজন কম হওয়ায় তিনি চালককে পছন্দ করে দপ্তর থেকে নিয়ে এসেছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘‘সিভিল সার্জনের গাড়ি তো বন্ধ থাকতে পারে না! আমি না চললে সব উপজেলা ও এর সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাবে।’'

“সিভিল সার্জনের গাড়ি তো বন্ধ থাকতে পারে না! আমি না চললে সব উপজেলা ও এর সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাবে।”

এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। জুড়ী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন—একজন কর্মকর্তার সরকারি যানবাহন সচল রাখার জন্য মুমূর্ষু রোগীর জরুরি পরিবহন স্থগিত করা কতটুকু ন্যায্য? তিনি বলেন, দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স সচল করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা উচিত।

দুর্নীতির অভিযোগ ও গোপন সূত্রের দাবি

অন্যদিকে কয়েকটি নাগরিক সংগঠন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মীর পক্ষ থেকে জেলা সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে আরও নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়—জেলার সরকারি টেন্ডারগুলো নির্দিষ্ট একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে; আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঘুষ গ্রহণ করা হচ্ছে; কর্মচারীদের বেতন থেকে নিয়মিত অর্থ কেটে রাখার ঘটনা আছে; পাশাপাশি দাপ্তরিক কক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং সরকারি কর্মসূচিতে অনাগ্রহের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা গোপনে জানিয়েছেন, ‘‘টাকা ছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। টাকা না দিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করা হয়।’’ বৃহত্তর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা সম্পর্কে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি ও সম্ভাব্য প্রভাব

জুড়ীর সাধারণ জনগণ, সাংবাদিক সমাজ ও স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকরা দাবি করছেন—অ্যাম্বুল্যান্সটি যেন দ্রুত নিয়ম মাফিক রোগী পরিবহনে ব্যবহার শুরু করা হয়। তারা আরও চান—সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। নিকটস্থ হাসপাতালে সময়মতো পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অ্যাম্বুল্যান্স অনুপলব্ধ থাকলে মুমূর্ষু রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান।

  • সমস্যার সূত্রপাত: ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চালকের বদল/নিয়োগ
  • প্রভাব: জরুরি রোগী পরিবহনে ব্যাঘাত, বাড়তি ভাড়া ব্যয় করে রোগীদের কষ্ট
  • উপরন্তু অভিযোগ: টেন্ডার সিন্ডিকেট, বেতন কাটা, দাপ্তরিক কক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার

দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ

শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিক মো. এহসানুল হক জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় অভিযোগ জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছেন এবং সাধারণভাবে বলছেন, ‘‘দেখছি’, ‘ব্যবস্থা নেবো’।’’ অপরদিকে সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘‘কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই আমি খারাপ হিসেবে বিবেচিত হবো।’'

“কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই আমি খারাপ হিসেবে বিবেচিত হবো।”

সংক্ষেপে: করণীয় ও শিক্ষণীয় দিক

জুড়ীতে একক সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স অনুপলব্ধ থাকা ও চালককে দপ্তরীয় কাজে নিয়োজিত রাখার ঘটনাটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের ব্যর্থতার প্রতিফলন। স্থানীয়দের দাবি—অ্যাম্বুল্যান্স পুনরায় জনসেবায় আনা, অভিযোগের স্বতন্ত্র তদন্ত ও প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, তা হলে মুমূর্ষু রোগীর নিরাপদ ও সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আয়ত্তাধীন বিষয় উল্লেখ্য
অ্যাম্বুল্যান্স চালক ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সিভিল সার্জনের গাড়ি চালাচ্ছেন
জরুরি পরিষেবা অতিজন চোখে দেখা ভেঙে পড়া, বেসরকারি ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ
উপর্যুক্ত অভিযোগ টেন্ডার সিন্ডিকেট, বেতন কর্তন, দপ্তরি কক্ষের ব্যক্তিগত ব্যবহার

এ রিপোর্টে ব্যবহৃত তথ্য স্থানীয় সাংবাদিকেরা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের গোপন সূত্র থেকে সংগৃহীত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে আরও বেশি রোগী ও সাধারণ মানুষ আঘাত পাবে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা রয়েছে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

52মৌলভীবাজার

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো মৌলভীবাজার, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব