শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কাজ পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, শ্রীমঙ্গলসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলার অবকাঠামো, যোগাযোগ ও সার্বিক উন্নয়নে ১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সেইসঙ্গে পুরো সিলেট বিভাগের উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের পর্যটন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
প্রতিমন্ত্রী জানান, শ্রীমঙ্গলকে পরিবেশবান্ধব একটি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। পর্যটন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে শ্রীমঙ্গলের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে, যা দেশের ও বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়াতে সাহায্য করবে বলে তার আশাবাদ।
শহরের ময়লার ভাগাড় দ্রুত পরিবেশবান্ধব স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। ময়লা-বাস্তবায়নের সংক্রান্ত পরিকল্পনা তৈরির জন্য একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং ১৫ দিনের মধ্যে পরিকল্পনা প্রস্তুত করার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদন এবং নবায়ণযোগ্য বিদ্যুৎ সৃষ্টির সুযোগ রাখা হবে।
সরকারি প্রশাসনিক ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ
সরকারি বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের কথাও প্রতিমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সচিবালয় থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।
স্থানীয় সরকারের নির্বাচন—সময়সূচি ও বাজেট পরিকল্পনা
স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী এও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সাপেক্ষে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার — সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই সব স্তরে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এগুলি বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রস্তাব রাখা হয়েছে; তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী মোট সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সংস্থান করা হয়েছে।
“শ্রীমঙ্গলের বর্তমান ময়লার ভাগাড় দ্রুত পরিবেশবান্ধব স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে,”
স্থানীয় কার্যক্রম ও প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন
সকালে শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল মাঠ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং মাঠ সংলগ্ন এলাকায় জনসাধারণের জন্য দৃষ্টিনন্দন একটি ওয়াকওয়ে নির্মাণের নির্দেশ দেন। তিনি হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য নির্মাণাধীন সাততলা আবাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং এর উদ্বোধন করেন।
তদুপরি, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রেসক্লাবের উন্নয়নে নগদ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
উল্লেখ্য, এসব ঘোষণার ফলে স্থানীয়ভাবে অবকাঠামো ও পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনস্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ময়লা-দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নবায়ণযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণ স্থানীয় পরিবেশ ও সরকারি ব্যয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- প্রস্তাবিত বরাদ্দ: মৌলভীবাজার—১ হাজার কোটি, সিলেট বিভাগ—৫ হাজার কোটি
- শ্রীমঙ্গলের বিশেষ বরাদ্দ: পর্যটন উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি
- বর্জ্য পরিকল্পনা: বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে ১৫ দিনের মধ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন
| বিষয় | ঘোষিত বা পরিকল্পিত পরিমাণ / সময় |
|---|---|
| মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়ন প্রকল্প | ১,০০০ কোটি টাকা |
| সিলেট বিভাগের মোট প্রস্তাব | ৫,০০০ কোটি টাকা |
| শ্রীমঙ্গল পর্যটন বরাদ্দ | ৫০ কোটি টাকা |
| বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রস্তুতি | ১৫ দিনের মধ্যে |
| স্থানীয় নির্বাচন সময়সীমা | ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে |
প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণাগুলো বাস্তবে কবে ও কীভাবে কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে বাজেট অনুমোদন, প্রশাসনিক তৎপরতা ও সম্পর্কিত বিভাগের সমন্বয়ের ওপর। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ী শ্রেণি এই প্রকল্পগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে প্রত্যাশায় রয়েছেন।