মৌলভীবাজারের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (১২ আগস্ট) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনসংক্রান্ত অনিয়মের কথা উল্লেখ করে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রইছ আল রেজুয়ান ও মো. আকিব উল্লাহ নেতৃত্ব দেন।
অভিযান ও আইনী ধারাসমূহ
অভিযানে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো প্রয়োগ করে এ-ওয়ান ব্রেড অ্যান্ড বেকারিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রইছ আল রেজুয়ান। অপর দপ্তর থেকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় জেরিন ফুড অ্যান্ড কোংকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আকিব উল্লাহ।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন জানায়, অভিযান পরিচালনার সময় জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জরিমানা ও মামলা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ
- প্রতিষ্ঠান: এ-ওয়ান ব্রেড অ্যান্ড বেকারি — জরিমানা: ২,০০,০০০ টাকা (নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক), ৩৮ ও ৩৯ ধারায়)
- প্রতিষ্ঠান: জেরিন ফুড অ্যান্ড কোং — জরিমানা: ২৫,০০০ টাকা (ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায়)
- মোট অর্থদণ্ড: ২,২৫,০০০ টাকা — দুটি পৃথক মামলার মাধ্যমে আরোপিত
| প্রতিষ্ঠান | আইনি ধারা | জরিমানা (টাকা) |
|---|---|---|
| এ-ওয়ান ব্রেড অ্যান্ড বেকারি | নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ — ৩২(ক), ৩৮, ৩৯ | ২,০০,০০০ |
| জেরিন ফুড অ্যান্ড কোং | ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ — ৪৩ | ২৫,০০০ |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী ব্যবস্থা
বিসিক শিল্পনগরী এলাকার খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় বাজারে সরাসরি পণ্য সরবরাহ করে। এই ধরণের অভিযানের ফলে ভোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয়ভাবে নজরদারি বাড়বে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ জরিমানা আরোপ ও মামলার ব্যবস্থা নেয়া হয়, যা যেন দ্রুত আইনগত পরিণতি দেয় — এটাই তাঁদের লক্ষ্য।
স্থানীয় অর্থনীতি ও শিল্পনগরীর কর্মসংস্থানের বাস্তব প্রভাব কেমন হবে, তা নির্ধারণে প্রশাসনের অভিযানের ধারাবাহিকতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংশোধন কার্যক্রম নির্ভর করবে। তবে খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা সুরক্ষা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এমন অভিযান সক্রিয় রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ভোক্তাদের জন্য কার্যকর তথ্য
- কেনা পণ্যের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলে স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে যোগাযোগ করুন।
- খাদ্য প্যাকেটের লেবেল, উৎপাদন বা মেয়াদ সংক্রান্ত কোনো অসংগতিকে ছবি-সহ নথিভুক্ত করুন — অভিযোগ প্রমাণে তা কাজে লাগবে।
- নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত তথ্য ও অনিয়ম পর্যবেক্ষণে স্থানীয় জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ রাখুন।
জেলা প্রশাসন বলে, জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে এবং ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় তারা নিয়মিতভাবে শিল্পনগরী এলাকায় নজরদারি বাড়াবে। ভোক্তা ও ব্যবসা উভয়েরই জন্য একটি স্বচ্ছ, আইনসম্মত পরিবেশ গঠন করা প্রশাসনের অভিপ্রায়।
এই অভিযান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বা পরবর্তী আপডেট জেলা প্রশাসন থেকে প্রকাশিত হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।