কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় শুক্রবার সকালে বালুবাহী লাটার এক দুর্ঘটনায় চার শিশুর মধ্যে একজন নিখোঁজ হয়ে গেছেন। স্থানীয়রা এবং উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিন শিশুকে জীবিত বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছেন, কিন্তু আলিফ (৮) নামের এক শিশু খোঁজ মেলেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার সারমর্ম
ঘটনাটি ঘটেছে শিলাইদহ ঘাট এলাকায়; স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টার দিকে। বিকল্প কাগজ‑পত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল তখন, যখন চার জন শিশু ওই চালক পরিচালিত বালুবাহী লাটায় ওপরে ওঠে—চালক তাদের Several বার নামিয়ে দিলেও পরে তারা আবার লাটায় ওঠে। কাউকে সাইড দিতে চেয়ে গাড়ির পেছনের চাকা পিছলে যায় এবং লাটা নদীর লকেটে উল্টে পড়ে।চালক মুহূর্তের মধ্যে পানিতে নেমে কয়েকজনকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা ও পুলিশ পৌঁছানোর আগে তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়; তারা সবাই বর্তমানে হাসপাতালে বা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং জীবনহানির আভাস পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার ও অভিযান
ঘটনাস্থলে কুমারখালী থানা ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সঙ্গে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে খুলনা থেকে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। উদ্ধার অভিযান প্রশাসন‑ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা সম্মিলিতভাবে চালাচ্ছে।
| নাম | বয়স | অবস্থা |
|---|---|---|
| ওমর ফারুক | ৮ | জীবিত, উদ্ধার |
| আব্দুল আহাদ | ১০ | জীবিত, উদ্ধার |
| জিহাদ | ১১ | জীবিত, উদ্ধার |
| আলিফ | ৮ | নিখোঁজ |
স্থানীয়দের বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা জানান, ওই লাটা সাধারণত বালি পরিবহনে ব্যবহার হয় এবং এলাকার শিশুদের কাছে আকর্ষণের কারণ হয়ে থাকে—কেননা লাটায় ওঠা‑নামো একটি খেলার মতো অভিজ্ঞতা। অনেকবার নামিয়ে দেওয়া হলেও শিশুরা আবারও ফিরে চড়ে; এ কারণে অনেকে বারবার সতর্ক করে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
- ঘটনাস্থল: শিলাইদহ ঘাট, কুমারখালী উপজেলা।
- সময়: সকাল প্রায় ১০টা।
- উদ্বেগ: স্থানীয় ও প্রশাসনিক উদ্ধার দল এখনও নিখোঁজ শিশুর সন্ধান চালাচ্ছে।
নিষ্পত্তি ও ভবিষ্যৎ উদ্বেগ
ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে যে, নৌকাযোগ বা লাটা ব্যবহার করার সময় শিশুদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় সাবধানতা নেওয়া জরুরি। অপরদিকে আধুনিক উদ্ধারশক্তি দ্রুত পৌঁছালে নিখোঁজ ব্যক্তির সময়মত সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে; খুলনা থেকে রওনা হওয়া ডুবুরি দল পৌঁছালে উদ্ধার কাজ ত্বরান্বিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কুমারখালী থানার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় করে সন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত আছে। নিখোঁজ আলিফের পরিবারের লোকজন হতবাক এবং উদ্বিগ্ন; তারা দ্রুত তৈরী হওয়া যেকোনো সহায়তার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক পরবর্তী করণীয়
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে—স্থানীয় প্রশাসন ও যানবাহন মালিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, শিশুদের প্লেব্যান্ড/নিরাপদ খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা এবং লাটার‑রক্ষার কড়া উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হবে। একই সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ালে ভবিষ্যতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সম্ভব হবে।
এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ আলিফের সন্ধানে নির্দিষ্ট কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি; উদ্ধারকারী দল আশান্বিত যে নিরাপদভাবে তাকে খুঁজে বের করা হবে। আমরা খবর পাবার সাথে সাথে আরও তথ্য যোগ করব।