কুষ্টিয়ার পৌরবাজার এলাকা থেকে রোববার (৯ আগস্ট) সকালে সাদ্দাম (৪০) নামের এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সাদ্দাম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দা ও ওই বাজারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পৌরবাজারের আয়েশা ফল ভান্ডার ও আদর্শ ফল ভান্ডার নামে দুটি দোকান রাতে বন্ধ ছিল। রাতের কোনো এক সময় সাদ্দাম ওই দোকান দুটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ধারণা অনুযায়ী কিছু সংযোগকৃত বৈদ্যুতিক তার কেটে গিয়ে সেখানে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়েছিল। অন্ধকারে তা বুঝতে না পেরে বিদ্যুতায়িত তারের সংস্পর্শে আসলে সাদ্দামের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
ঘটনার সুত্র ও প্রাথমিক তৎপরতা
রোববার সকালে দোকান খুলতে এসে ব্যবসায়ীরা বাড়তি ভাবে মরদেহটি দেখে থানায় খবর দেন। কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয়দের ধারণা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
ঘটনাস্থলের ব্যবসায়ীদের কথায়, রাতের অন্ধকার ও বাজারের বন্ধ অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অনানুমানিক কিছু কাজ করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা বলেছে যে ইঁদুরের কারণে বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি খোলা অবস্থায় থেকে থাকতে পারে এবং কেউ অজান্তেই তার স্পর্শ করলে মর্যাদা ঘটতে পারে। এই ধরনের ঘটনা মূলত বাজার এলাকায় অপর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও অপ্রতুল রাত্রীরক্ষার ইঙ্গিত দেয়।
- নিহত: সাদ্দাম, বয়স ৪০
- ঠিকানা: দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়া
- ঘটনাস্থল: কুষ্টিয়া পৌরবাজার (আয়েশা ও আদর্শ ফল ভান্ডারের সামনের এলাকা)
- মৃত্যু প্রসঙ্গ: ব্যবসায়ীদের ধারণা—বিদ্যুৎ সংস্পর্শে মৃত্যু
- প্রাথমিক কর্মপদ্ধতি: মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো
| ঘটনা | সময় |
|---|---|
| মরদেহ পাওয়া | রোববার (৯ আগস্ট) সকাল |
| মরদেহ মর্গে পাঠানো | উল্লেখিত দিন সকালেই |
নীতিগত ও প্রাত্যহিক নড়াচড়ার গুরুত্ব
বাজার এলাকায় রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ সংযোগ ও তারের অস্থায়ী অবস্থান জনজীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। ব্যবসায়ীরা রাতের বেলায় দোকান তালা দিয়ে যাওয়ার পর দোকানপট্টির চারপাশের বৈদ্যুতিক তার, সরঞ্জাম ও বাহ্যিক সংযোগ পরীক্ষা করে না থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও পুলিশ ময়নাতদন্তের ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে এ ধরনের ঘটনাকে জলঝুঁকি পরিহার ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা দরকার।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন বাজারে রাতে পর্যাপ্ত আলো, নৈশ প্রহরী বা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা থাকলে এমন দুর্ঘটনা কমবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক তারের দ্রুত মেরামত ও স্থায়ী সংযোগের দিকে মনোনিবেশ করলে পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম
ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর তদন্তের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ময়নাতদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ (যদি পাওয়া যায়) এবং স্থানীয়দের বয়ান পর্যালোচার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোটকথা, কুষ্টিয়া পৌরবাজারে এক শ্রমিকের অকাল মৃত্যু স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের কারণ হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে ঘটনার আসল কারণ ও আইনগত পরিণতি সম্পর্কে পরিবার ও জনসাধারণের কাছে তথ্য জানানো হবে।