দুপুরে বেড়ে ওঠা উত্তেজনার মধ্যে দিনাজপুরে পরিবহন শ্রমিকেরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ঘোষণা করেছেন। সকালে শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও থানার সামনে অবস্থান গ্রহণ করে সড়ক অবরোধ করলে জেলা ও আশপাশের রুটে ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
প্রতিবাদ কেন
শ্রমিকদের দাবি, সাবেক জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব ও পরিবহন শ্রমিক নেতা মজিবুর রহমান মুজিবকে গ্রেপ্তার করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তারা মুজিবকে নির্বিঘ্ন মুক্তি, নির্যাতনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করছেন। আন্দোলনকারীরা অনড় দাবি রেখেছেন যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও তাকে মারধরের বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের কথ্য বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার কোতোয়ালি থানার ওসির কক্ষে মামলার তদন্ত নিয়ে কথাবার্তা চলার সময় সিআইডি সদস্য ও মজিবুরের মধ্যে কথা কাটাকাটি ঘটে। এক পর্যায়ে মজিবুর ওই সিআইডি কর্মকর্তাকে থাপ্পড় দেন এবং পরে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় কেন্দ্র থেকে মুজিবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের পর থেকে শ্রমিক ও সহকর্মীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
পুলিশ প্রতিক্রিয়া
“সাধারণ যাত্রীদের কথা চিন্তা করে আমরা বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলব। তাদের যৌক্তিক বিষয়গুলো আমরা বিবেচনা করব। আলোচনার মাধ্যমে অতি শিগগিরই একটি সুন্দর সমাধান হবে।”
এ কথা বলেন দিনাজপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম, যা পরিস্থিতি শান্ত করার একটি ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আন্দোলনে কারা অংশ নিয়েছেন
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থাকা নেতৃত্বে ছিলেন—মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোননাফ মুকুল, আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শওকত আলী তোতা এবং সাবেক সহসভাপতি এনামুল হক সহ বিভিন্ন স্তরের শ্রমিক ও নেতা-কর্মীরা।
- প্রধান দাবি: মুজিবের সুষ্ঠু ও অবিলম্বে মুক্তি, নির্যাতনকারীদের বিচারের ব্যবস্থা, ওসি নুর নবীকে অপসারণ।
- অভিযোগ: গ্রেপ্তারের সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন।
- প্রভাব: দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন রুটে যানবাহন বন্ধ এবং যাত্রীদের ভোগান্তি।
স্থানীয় কার্যক্রম ও ব্যপারির প্রতিক্রিয়া
সড়ক অবরোধের ফলে শহরের সাধারণ লোকজন, শিক্ষার্থী ও কর্মস্থলে যাতায়াতকারীরা তীব্র সমস্যায় পড়েছেন। দূরপাল্লার কোচ চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী স্ট্যান্ডে আটকে থাকেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাণিজ্যিক কার্যক্রমও কমে গিয়েছে। পুলিশ শান্তি রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনা শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত কী সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে, তা অনিশ্চিত।
ট্র্যাকিং: পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে
এ ধরনের কর্মসূচি সাধারণত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে জনসাধারণের স্বার্থ বিবেচনায় আলোচনা চালিয়ে সমস্যা মিটিয়ে নিতে আগ্রহী তারা। তবে শ্রমিক নেতারা জানান, তাদের দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত অবস্থান চলবে—এর ফলে অচিরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত রূপ নিতে পারে।
| দাবি | লক্ষ্যবান কর্মকর্তা/প্রতিষ্ঠান |
|---|---|
| মুজিবের মুক্তি | কোতোয়ালি থানা/আদালত |
| নির্যাতনের বিষয়ে তদন্ত ও শাস্তি | বিভিন্ন তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান |
| ওসি নুর নবীর অপসারণ | কোতোয়ালি থানা/পুলিশ প্রশাসন |
শ্রমিকদের আন্দোলন ও পুলিশি প্রতিক্রিয়ার মধ্যকার এই উত্তেজনা দিনে দিনে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ও যুক্তিসংগত সমাধান খুঁজে বের করাই এখন বৃহত্তর চাহিদা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই—এমন অবস্থায় স্থানীয়রা সজাগ থাকার পাশাপাশি বিকল্প পথে চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ রাখছেন।