গাইবান্ধায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব)-এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটি বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সিপিসি-৩, গাইবান্ধা র্যাব-১৩ ক্যাম্পের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপনায় র্যাব কর্মকর্তা, প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিপিসি-৩ ও র্যাব-১৩-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ রেজাউল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ ও শিক্ষাবিদ মাজহারুল মান্নান।
বক্তারা মাদককে পরিবার ও সমাজ ভাঙনের কারণ উল্লেখ করেন
সভায় বক্তারা একাধিক দিক থেকে মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধ প্রচেষ্টা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা বলছিলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে নয় বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এছাড়া অপরাধের সাথে জড়িত যুবসমাজকে ফেরত আনার জন্য অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অগ্রগতি জরুরি বলে সম্মিলিতভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
“মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়।”
বক্তারা পুনরায় জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, মাদকাসক্ত তরুণদের পুনঃসমন্বয় ও সমাজে ফেরত আনার জন্য কিশোর-কিশোরীদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা, শিক্ষা ও পারিবারিক নজরদারির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম প্রয়োজন।
স্থাপনা ও কার্যক্রম: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সমবায় ও সমাজকল্যাণ সংস্থার অংশগ্রহণ
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটসের সদস্যরা অংশ নেন। সভার শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছু খেলাধুলার উপকরণ বিতরণ করা হয়, যা ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে যুবসমাজকে সৃষ্টিশীল কাজে নিয়োজিত করার প্রয়াস হিসেবে আখ্যেয়িত করা হয়েছে।
- উপস্থিতি: জেলা প্রশাসক, পুলিশ, র্যাব কর্মকর্তারা ও শিক্ষাবিদ।
- অংশগ্রহণকারী: কলেজের শিক্ষার্থীরা, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটস।
- কার্যক্রম: আলোচনা, মানসিক সহায়তা ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ।
স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্যে বলা হয়েছে যে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই একমাত্র সমাধান নয়; পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব নিতে হবে—এমনটিই তাদের বার্তা ছিল।
| সংস্থা/ব্যক্তি | উপস্থিতি/ভূমিকা |
|---|---|
| সিপিসি-৩, র্যাব-১৩ | আয়োজক ও আয়োজন তত্ত্বাবধায়ক |
| জেলা প্রশাসক | প্রধান অতিথি |
| পুলিশ সুপার | বিশেষ অতিথি |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রসমাজ | অংশগ্রহণকারী |
র্যাবের স্থানীয় কমান্ডার ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা মিলে ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে আরও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা বলছেন, সচেতনতা ছড়িয়ে দেবার পাশাপাশি মাদক পরিহার ও বিকল্প কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করে যুবসমাজকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
মতবিনিময় সভার আয়োজন ও অংশগ্রহণকারীদের শ্রেণিবিন্যাস দেখলে পরিষ্কার যে, গাইবান্ধার স্থানীয় নেতারা মাদক বিরোধী সচেতনতার পাশাপাশি যৌথ সামাজিক উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে—যা এলাকার সামাজিক পরিবেশে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।