প্রাথমিক অভিযান: চিমনি ধসিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সংকল্প
হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন বুধবার প্রথম অভিযান পরিচালনা করে। সাঘাটার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের এআরবি ব্রিকস ইটভাটার চিমনি ভাঙা হয়েছে। অভিযানটি পরিচালনা করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট রোমেন পাল।
অভিযানে জেলা পুলিশের পক্ষে সহায়তা করেন এসআই নাজমুল ইসলাম এবং আনসার সদস্য নায়েক মো. কাসেম। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, হাইকোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় যেসব ইটভাটা অননুমোদিত রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সাঘাটার এআরবি ব্রিকসের চিমনি ভাঙা প্রথম ধাপ হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
জেলা পর্যায়ের অবস্থা ও পরিসংখ্যান
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট ১২৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি বৈধ অনুমোদনপ্রাপ্ত। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার বাকি ১০৯টি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
| মোট ইটভাটা | বৈধ | অবৈধ (হাইকোর্ট নির্দেশ) |
|---|---|---|
| ১২৫ | ১৬ | ১০৯ |
অভিযানের কারণ ও পরিবেশগত প্রভাব
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই অভিযান পরিবেশ সুরক্ষা ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ ইটভাটা থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া ও কাদা এলাকার কৃষিজমি, পানি ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেসব প্রভাব দূরীকরণ এবং পরিবেশগত ক্ষতি রোধ করতেই এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের ভাষ্য।
- প্রথম পর্যায়ে সাঘাটার এআরবি ব্রিকসের চিমনি ভাঙা হয়েছে।
- অভিযান পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও আনসার একযোগে কাজ করেছে।
- জেলায় মোট ১২৫ ইটভাটার মধ্যে ১০৯টি হাইকোর্ট নির্দেশনাসম্পন্নভাবে অবৈধ আছে।
"হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারেই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাঘাটায় এআরবি ব্রিকসের চিমনি ভাঙার মধ্য দিয়ে প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে," বলেন সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট রোমেন পাল।
অভিযান পরিচালনাকারীরা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে নির্দেশনার আওতায় থাকা অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা বলেন, প্রশাসন পর্যায়ক্রমে সকল অননুমোদিত কার্যক্রম শনাক্ত করে আইনানুগ করণীয় গ্রহণ করবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও সম্ভাব্য ফলাফল
চিমনি ভাঙার জেরে ওই ইটভাটার কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে—এই সিদ্ধান্ত এলাকার বাকি বাসিন্দাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু কৃষক ও স্বাস্থ্যকর্মী এ ধরণের অভিযানকে ইতিবাচক বলছেন, কারণ দীর্ঘদিন ধরে নির্গত ধোঁয়া ও কণিকা তাদের ফসল ও স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলত। অন্যদিকে ইটভাটা থেকে যারা কর্মসংস্থান পেতেন, তাদের বিরোধিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযানের ফলে পরিবেশগত ক্ষতি কমানো এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। জেলার বাকি অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই তারা সাত contador (sic) বার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এ ঘটনায় গাইবান্ধার পরিবেশ রক্ষায় যে প্রথম জোরদার উদ্যোগ প্রকাশ পেয়েছে, তা স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনিক পর্যায়ে নজরকাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে পরবর্তী অভিযান ও এর বাস্তব প্রভাব গাইবান্ধাবাসীর জীবনযাত্রা, কৃষি উৎপাদন ও উপজেলা-জেলা পর্যায়ের পরিবেশ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।