চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজের একটি ট্যাংক কাটা হলে হঠাৎ করে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে; এতে মোট ৯ জন শ্রমিক মারা যান এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন গাইবান্ধার। শনিবার সকালে নিহতদের মরদেহ তাদের নিজ গ্রামে পৌঁছায় এবং পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার স্থান ও সময়
ঘটনা ঘটেছে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক কাটার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস বের হয়; এতে ওই মুহূর্তেই কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে ঘটনাস্থল ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলিয়ে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়।
গাইবান্ধার নিহতরা—পরিবারের ঘটনা বিবরণ
গাইবান্ধার নিহতদের মধ্যে একজন হলেন রানা মিয়া (২৪), তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের। অপরজন হলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের হলুদিয়া গ্রামের খোকন মিয়া। দুইজনই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
| নাম | উপজেলা/গ্রাম | কাজের ধরণ | বয়স |
|---|---|---|---|
| মো. রানা মিয়া | গাইবান্ধা সদর, উত্তরপাড়া | জাহাজভাঙা ইয়ার্ড শ্রমিক | ২৪ |
| মো. খোকন মিয়া | সুন্দরগঞ্জ, হলুদিয়া | জাহাজভাঙা ইয়ার্ড শ্রমিক | — |
পরিবার ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রানা মিয়া ও খোকন মিয়ার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। স্থানীয়রা জানান, মরদেহ এসে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যদের আহাজারি ও কান্নায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে গেছে। অনেকেই বলছেন, পরিবারে অভাব-অনটনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দূরবর্তী চট্টগ্রামে গিয়ে জাহাজভাঙা কাজ করতেন; জীবিকা নির্বাহের জন্য এই শ্রমিকেরা পাহাড়ের মত কঠোর কাজ করলেও জীবনের নিরাপত্তা ছিল না বলেই স্থানীয়রা মনে করেন।
ঘটনার পরবর্তী অবস্থা ও জরুরি বিষয়গুলো
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও কেউ কেউ হাসপাতালে মারা যান; ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন আহত রয়েছেন। এ পর্যন্ত বাড়তি তথ্য, যেমন আহতদের সংখ্যা বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ সীমিত পরিসরে পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে তদন্ত চলার কথা জানা গেছে।
- স্থান: ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
- সময়: শুক্রবার সকাল (ট্যাংক কাটা সময়)
- ফলাফল: মোট ৯ জন নিহত; তাদের মধ্যে গাইবান্ধার ২ জন
পেছনের প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
জাহাজভাঙার কাজে ট্যাংক কাটা, রাসায়নিক নিক্ষেপ এবং উপকূলীয় পরিস্থিতি মিলিয়ে কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ। শ্রমিকেরা প্রায়ই শরীর সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যতীত কাজ করেন—এই ধরনের অপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের কথায়, জীবিকা রক্ষায় অনেক শ্রমিক নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন; দুর্ঘটনার পরে এই বিষয়গুলো পুনরায় আলোচ্য হওয়ার কথা।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো জরুরি বলে স্থানীয় সমাজ নেতারা মনে করছেন:
- যত্নশীল কাজের জন্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা সরঞ্জামের নিশ্চয়তা
- জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কাজের পরিবেশ নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করা
- দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা
বর্তমানে ঘটনার প্রাথমিক তথ্যকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে। নিহত শ্রমিকদের পরিবার এখনও ক্ষতগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং স্থানীয়রা তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। আমরা নতুন তথ্য পাওয়া মাত্র বিপুলতর রিপোর্ট চালিয়ে যাব।