গাইবান্ধা সদর এলাকার পুলিশ সুপারের (এসপি) বাসভবনের (বাংলো) ভেতরের ব্যারাকের বাথরুম থেকে পুলিশের নায়েক (নামঃ হাবিবুর রহমান) নামে এক সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবরটি রেকর্ড করা হয়েছে বুধবার বিকেলে—পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মরদেহ উদ্ধার করার পর তা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনা ঘটে তখন হাবিবুর বাংলোর গার্ড রুমে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সহকর্মীরা দীর্ঘ সময়তারতীন না হওয়ায় সন্দেহ করে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলে কোনও সাড়া না পাওয়া যায়। পরে দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে বাথরুমের রডে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় তিনি ঝুলে থাকা অবস্থায় দেখতে পান।
“ব্যারাকের বাথরুমের রডের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে একটি মোবাইলও ওই অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাকালে ভিডিও কল চালু ছিলো।”
উপরের উদ্ধৃতিটি গাইবান্ধা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জসিম উদ্দিনের কথার স্বরে প্রকাশিত বিবরণ থেকে নেওয়া। গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীবও ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছেন এবং প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যাকেই সম্ভাব্য কারণে উল্লেখ করেছেন।
পরিবারিক ও দায়িত্বগত প্রেক্ষাপট
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাবিবুর ঢাকায় স্ত্রী ও এক সন্তানসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন যখন তিনি ডিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। বদলির পরে তিনি গাইবান্ধা লাইনে যোগ দিয়ে এসপির বাংলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন; তবে পরিবার এখনও ঢাকায় থাকত—এমনই বিবরণ পুলিশের কাছে আছে। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি নিত্যদিনই বাংলোতেই ব্যারাকে থাকতেন এবং চলতি সময়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল।
- নাম: হাবিবুর রহমান
- পদ: পুলিশের নায়েক (গার্ড/নিরাপত্তা)
- স্থায়ী ঠিকানাঃ নীলফামারীর বাবুপাড়া (পৌর এলাকা)
- পরিস্থিতি: বাথরুমের রডে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ
সময়ের বিবরণ (প্রাথমিক)
| ঘটনার সময় | বিবরণ |
|---|---|
| বিকেল (পৌনে পাঁচটা/সাড়ে তিনটা উল্লেখ ভিন্নতা) | সহকর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ে হাবিবুরকে বাইরে না পেয়ে সন্দেহ করে দরজা ভেঙে বাথরুমে প্রবেশ করলে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। |
| মরদেহ উদ্ধার | পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। |
দ্রষ্টব্য: বিভিন্ন সংবাদসূত্রে ঘটনাকালের সঠিক সময়ে কিছু ভিন্নতা দেখা গেছে—কিছু প্রতিবেদনে বিকেল সাড়ে তিনটায়, আবার কিছু প্রতিবেদনে পৌনে পাঁচটায় মরদেহ পাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এই বিষয়টি তদন্তে স্পষ্ট হবে।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা ও এগিয়ে থাকা জেলা পুলিশ প্রশাসন ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত চালাচ্ছে। এক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামনে এসেছে, তবে প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা হবে।
আপাতত পুলিশ সাক্ষ্যগ্রহণ করছে এবং বাংলোর ভেতরের ব্যবস্থাপনা, সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল ফোনের ফরেনসিক সম্ভাব্য বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে—বিশেষত যে মোবাইলটি ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে এবং সেটি এমন ভাবে রাখা ছিল যে ভিডিও কলের অনুপস্থিতি/উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
একটি এসপির বাংলোতে কর্মরত পুলিশ সদস্যের এ রকম হঠাৎ মৃত্যু স্থানীয় পুলিশ ইউনিটে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এমন ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও মনোযোগ আকর্ষণ করে—বিশেষত কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও সহকর্মীদের পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত দিকগুলো।
এই ঘটনার পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা কঠিন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, মোবাইল ফোনের তথ্যমূল্যায়ন ও সহকর্মীদের সাক্ষ্যগুলো একত্রে ঘটনার চিত্র পরিষ্কার করবে।
গাইবান্ধা জেলায় এ ঘটনার আরও কোনো বিকাশ বা পুলিশি বিবৃতি এলে তা অনুসরণ করে প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।