গাইবান্ধা, পলাশবাড়ী — পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসক ও জনবলের অভাবের মধ্যে সেবা চালাতে হচ্ছে। এমবিবিএস হিসেবে মোট ২৫টি স্থায়ী পদ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে, ফলে রোগী-পরিবার ও দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের ওপর চাপ ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।
রোগীদের ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যসেবার প্রভাব
হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগ (আউটডোর) ও জরুরি বিভাগে দূর-দূরান্ত থেকে রোগী আসছেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অতিমাত্রায় কম থাকায় অপেক্ষার লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। রোগীরা ঘণ্টা বা ঘণ্টাব্যাপী লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন; জরুরি রোগীর সঠিক প্রাথমিক মূল্যায়ন ও দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে।
দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকরা সীমিত সম্পদ ও সময় নিয়ে কাজ করছেন। সূত্রে বলা হয়েছে, টিএইচও সালাউদ্দিন আহম্মেদ খান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইশতিয়াক আমিন অলিক এই পরিস্থিতিতেই হাসপাতাল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
"চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত মানের চিকিৎসাসেবা দিতে আমরা বড়ই বিপাকে আছি," — ডা. ইশতিয়াক আমিন অলিক
চিকিৎসক ও জনবল বিভাজন: সংখ্যা এবং বাস্তবতা
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| সংকল্পিত এমবিবিএস পদ | 25 |
| বর্তমানে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক | 5 |
কর্মীদের বক্তব্য ও স্থানীয় প্রত্যাশা
ডা. ইশতিয়াক বলেছেন, সীমিত চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়ার ফলে তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের পাহাড় পড়ছে। টিএইচও সালাউদ্দিন আহম্মেদ খান আশা প্রকাশ করেছেন যে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে স্থানীয়রা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ত্বরিত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
- রোগীরা খুঁটি-ঘেঁষে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
- জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সময়মতো সেবা না পেয়ে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- চিকিৎসকরা অতিরিক্ত ডিউটি ও ক্লিনিক্যাল কাজের ফলে কর্মত্রুটির শঙ্কা নিয়ে কাজ করছেন।
- স্থানীয়রা এমবিবিএস চিকিৎসক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগের দ্রুত ব্যবস্থা চান।
প্রসঙ্গ ও এলাকাভিত্তিক প্রভাব
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান। এখানে স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক থাকায় শুধুমাত্র পলাশবাড়ীর নয়, আশেপাশের গ্রামের রোগীরাও প্রভাবিত হচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা বিলম্বিত হলে প্রতীয়মান ফলাফল হতে পারে রোগীর অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ, জরুরী স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়া এবং অর্থনৈতিক অনর্থ।
সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা প্রণালীর টেকসইতা রক্ষায় পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও সহকর্মীর স্থাপনা অপরিহার্য।
প্রস্তাবিত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ
স্থানীয় স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ না হলে সেবার মান নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি থাকতে পারে। সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো হলো:
- জরুরি বরাবর এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের তৎক্ষণাত তালিকা প্রকাশ ও ভর্তির ওপর ত্বরান্বিত পদক্ষেপ।
- স্বেচ্ছাসেবী ও অস্থায়ীভাবে জেলা শশস্ত্র হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক সহায়তা প্রেরণ।
- অতিমাত্রায় ভর্তি ও বহির্বিভাগ চাপ পরিচালনার জন্য সেবা সময়সূচি ও প্রাথমিক তত্ত্বাবধানে বাড়তি কর্মী নিয়োগ।
বর্তমানে হাসপাতাল ও এলাকাবাসী কর্তৃক উত্থাপিত আহবানগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন পর্যন্ত পৌঁছেছে কি না— তা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত সমাধান চায়, না হলে সেবা ব্যাহত হয়ে জনজীবনে গুরুতর প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
প্রতিবেদন তৈরির সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ এই ধরনের সংকট দ্রুত সমাধান না হলে যে রোগী-জীবন ঝুঁকিতে পড়ে— তার প্রভাব স্থানীয় জনগণের ওপর অগ্রাহ্য করা যাবে না।