গাইবান্ধা শহরের স্টেশন রোডে অবস্থিত পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে নায়েক হাবিবুর রহমান (৩৩) নামের একজন পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ব্যারাকের বাথরুম থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
প্রাথমিক তথ্য ও উদ্ধার কার্যক্রম
স্থানীয় পুলিশের বরাত জানায়, হাবিবুর কয়েকদিন ধরেই এসপির বাংলোর ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। ব্যারাকে অন্যান্য কয়েকজন সদস্যও থাকতেন। আজ বিকেলে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে থাকা সহকর্মীরা ব্যারাকের বাথরুমের ভিতরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব রাত পৌনে নয়টায় প্রথম আলোকে ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশি বিবরণ ও পরিবারের উল্লেখ
হাবিবুর ছিলেন পুলিশের নায়েক পদে কর্মরত। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর বাবুপাড়া এলাকায়। বাবার নাম প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—মিন্টু মিয়া। প্রাথমিকভাবে পুলিশ বলেছে, তিনি বেশ কিছুদিন থেকে এসপির বাংলোতে গার্ড হিসেবে ছিলেন এবং বাংলোর ভেতরে ব্যারাকে ছিলেন।
“ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি (হাবিবুর) আত্মহত্যা করতে পারেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে,”
— অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব (পুলিশ বিবৃতি)।
ওসি ও অন্যান্য সূত্রের বর্ণনা
গাইবান্ধা সদর থানা ওসি সার্বিক ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, নিহতের সাথে তাঁর পারিবারিক বিষয় ও কলহের সম্পর্কিত বিষয়গুলোও তদন্তের অংশ হবে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় এক পুলিশ সূত্র জানান, ঘটনার সময় ব্যারাকের অন্যান্য সদস্যরা কাজে নিয়োজিত ছিলেন; কয়েকজনই একই সময়ে বাংলোর ভেতর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। পৌনে পাঁচটার দিকে সহকর্মীরা দরজা খোলার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করে মরদেহ দেখতে পান।
প্রাসঙ্গিক তথ্যের সংক্ষেপ
- নাম: হাবিবুর রহমান
- পদ: নায়েক, পুলিশ
- বয়স: ৩৩ বছর
- স্থান: এসপির বাংলোর ব্যারাক, স্টেশন রোড, গাইবান্ধা
- সময়: আজ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মরদেহ উদ্ধারে প্রাথমিক খবর
| আইটেম | তথ্য |
|---|---|
| উদ্ধার স্থান | এসপির বাংলোর ব্যারাক, বাথরুম |
| মরদেহ প্রেরণ | গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গ |
| প্রাথমিক মন্তব্য | পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আত্মহত্যার প্রাথমিক সম্ভাবনা |
তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ হবে এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার পটভূমি জানা চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে থানায় অপমৃত্যু বা প্রাসঙ্গিক মামলা করার প্রস্তুতি নিযে থাকা সম্ভব বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় মানবিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে ঘটনার প্রভাবকে কিভাবে মোকাবিলা করা হবে তা নিয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা হয়নি; তবে পুলিশের তৎপরতা ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ক্ষণে ক্ষণে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।
এই ধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে সহকর্মী ও পরিবারকে মানসিক সহযোগিতা ও প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ জরুরি। পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কর্মরত সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সহায়তা সম্পর্কে নিয়মিত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও সামাজিকভাবে ওঠে।
গাইবান্ধা সদর থানার পাশাপাশি জেলা পুলিশের উর্ধ্বতনরা ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করে গোটা বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিকভাবেusut পরীক্ষা করে সাংবাদিকদের জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।