গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১৭০টি হাঁস-মুরগি মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দাবি করেছেন, এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টাকা। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে তিন প্রতিবেশীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ ও পরিস্থিতি
অভিযোগকারী মোছা. কমেলা বেগম বলেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিযুক্তদের (মো. অছু মিয়া, মো. আব্দুল হাই ও মমিনা বেগম) বহুদিন ধরে পারিবারিক ও সামাজিক বিবাদ রয়েছে। তিনি জানান, শনিবার সকালে পরিবারের লোকজন হাঁস-মুরগি ঘর থেকে ছেড়ে দিয়েছে। কিছু সময় পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির আশপাশে গিয়ে দেখেন প্রাণীগুলো পড়ে আছে এবং পরে সেগুলো বিষক্রিয়ায় মারা গেছে বলে তাদের ধারণা।
“আজ শুধু হাঁস-মুরগি বিষ দিয়ে মেরেছি, ভবিষ্যতে পরিবারের লোকজন ও ছোট শিশুদেরও বিষ প্রয়োগসহ যেকোনো উপায়ে হত্যা করা হবে।”
কমেলা বেগম অভিযোগ করেন, অভিযোগ জানানোর পর অভিযুক্তরা তাদের হুমকি দিচ্ছেন এবং তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।
পুলিশের অবস্থান
পলাশবাড়ীর হরিণাবাড়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন আলী ঘটনার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গেছেন ও তদন্ত করেছেন। তিনি বলেন, “এখানে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় রয়েছে। বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করতে বলেছি।”
পুলিশের এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, প্রাথমিক স্তরে সংযমের পরামর্শ দেয়া হয়েছে; তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তার কিংবা আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের খবর নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় আবহ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পালিত মুরগি ও হাঁস-মুরগি অনেক পরিবারের জন্য দৈনন্দিন আয়ের উৎস। একটি বড় পরিসরে প্রাণী হালকাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেই পরিবারের সামর্থ্যে রীতিমতো ধাক্কা লাগে। অভিযোগ অনুযায়ী ক্ষতিটিই আর্থিক ক্ষতির মূল প্রমাণ; পাশাপাশি হুমকির বিষয়টি পরিবার ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তাবোধে প্রভাব ফেলতে পারে।
- আহত পরিবার: মোছা. কমেলা বেগম ও পরিবারের সদস্যরা
- অভিযুক্ত হিসেবে নাম: মো. অছু মিয়া (৫৫), মো. আব্দুল হাই (৫২) ও মমিনা বেগম (৫০)
- দাবিকৃত আর্থিক ক্ষতি: প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টাকা
- মৃত বা আহত ব্যক্তির সংবাদ নেই; ঘটনা পশুকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ
| নথিভুক্ত বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | মনোহরপুর গ্রাম, পলাশবাড়ী উপজেলা, গাইবান্ধা |
| অভিযোগকৃত প্রাণী সংখ্যা | প্রায় ১৭০টি হাঁস-মুরগি |
| আর্থিক ক্ষতি | প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টাকা (অভিযোগমূলক) |
| পুলিশ প্রয়োজনে | ঘটনাস্থলে তদন্ত করেছেন; প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সমাধানের পরামর্শ |
কি করা উচিত—আইনি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে পারিবারিক বিবাদের বাইরে এটি এখন একটি সাংবাদিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তের বিষয়। আইনগতভাবে নিম্নলিখিত কার্যক্রম জরুরি:
- পুলিশের আনুষ্ঠানিক জিডি/এফআইআর: অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে যদি মামলা করা হয়, তাহলে তা দ্রুত নথিভুক্ত হওয়া উচিত।
- প্রমাণ সংগ্রহ: মৃত প্রাণীর নমুনা, ঘটনাস্থলের ছবিসহ যেকোনো সম্ভাব্য সাক্ষ্য সংরক্ষণ করা জরুরি।
- স্বাস্থ্য-বিষয়ক পরীক্ষণ: সন্দেহভাজন বিষের ধরন জানতে সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার সুপারিশ থাকতে পারে।
এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। অপরদিকে, তদন্তকালে উভয়পক্ষের বিবরণ নেওয়া ও নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাই করা স্থানীয় শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
বর্তমানে ঘটনার সম্পূর্ণ কাগজপত্র-ভিত্তিক তদন্ত শুরু হয়নি বলে পলাশবাড়ী থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অপেক্ষিত। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে জেলাশাসক ও পুলিশকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন স্থানীয়রা।