পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুলগণ্ডিতে সামাজিক সচেতনতার উদ্যোগ
পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে সোমবার সকালেও স্থানীয় নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কয়েক শতাধিক স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী মাদক, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারকে লাল কার্ড দেখিয়ে এসব নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে থাকার শপথ নিয়েছে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে টিফিনের জমানো টাকায় পরিচালিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন—লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় শিবিরে অংশগ্রহণকারীরা উন্নত চরিত্র গঠন ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রেখে বাল্যকালকে অনুকূল করে তোলার অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা, যারা শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান ও তাদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম রহুল আমিন সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দেবীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রবীর সরকার। এছাড়া লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের যুগ্ম সমন্বয়ক ওাসিম আকরাম উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের অভিজ্ঞতা ও কর্মপরিকল্পনা
আয়োজকদের দাবি, তারা গত পনেরো বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলা জুড়ে লক্ষ্মণীয় কাজ করে আসছে এবং এধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে উদ্বুদ্ধ করেছে। কাওসার আলম সোহেল জানান, সংগঠনটি টিফিন-জমানো অর্থ দিয়ে স্থানীয়ভাবে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী মুরাদ হোসেন বলেন,
"প্রতিদিন বিদ্যালয়ের শপথের পাশাপাশি আজ আমরা মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকার বিশেষ শপথ নিয়েছি এবং এসব নেতিবাচক কাজকে লাল কার্ড দেখিয়েছি।"
প্রধান শিক্ষক জি এম রহুল আমিন ওই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং জানান, শৈশব ও কৈশোরের সময় সঠিক পরিপূর্ণ শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনেক কুপ্রবৃত্তি প্রতিরোধ করা যায়।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা
সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় পঞ্চগড়ের ভিতরে সমাজে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়—মাদক প্রবণতা, কিশোর অপরাধ ও অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহার এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। স্কুল পর্যায়ের সচেতনতা কর্মসূচি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের জানাশোনা বাড়ায় না, বরং অভিভাবক ও শিক্ষক-সমাজকেও দায়িত্বশীল করে তোলে।
এ ধরনের শপথমূলক কার্যক্রম যখন নিয়মিতভাবে স্কুলের দৈনন্দিন অনুশাসনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, তখন তা ব্যক্তিগত অভ্যাস বদলাতে সহায়ক হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি ও পুলিশের সমর্থন এমন উদ্যোগকে কার্যকর বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চলমান চ্যালেঞ্জ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
যদিও এক দিনের শপথ অনুষ্ঠান সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক, তা যুগোপযোগী ও টেকসই ফল পেতে হলে নিয়মিত পরামর্শ, অভিভাবক ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কিশোরদের মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তা ও বিকল্প কার্যক্রম চালুর প্রয়োজন। স্কুল-ভিত্তিক নীতিমালা, মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ ও সময়োপযোগী তথ্যসেবা শিশুদের অনলাইন-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও organisers-দের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে নিয়মিত কর্মশালা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল ক্লাব চালানোর প্রতিশ্রুতি থাকায় এ ধরনের উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত হলে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায়।
- স্থান ও সময়: নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, দেবীগঞ্জ (সোমবার সকাল)
- প্রধান উদ্যোগী: লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ (টিফিন-জমানো তহবিল)
- অংশগ্রহণকারী: কয়েক শতাধিক বিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী, বিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসন
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আয়োজক | লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ |
| প্রধান অতিথি | ইন্দ্রজীত সাহা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা |
| উদ্দেশ্য | মাদক, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোন আসক্তি প্রতিরোধ |
শিক্ষার্থী ও স্কুল পক্ষ থেকে এমন কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য। দেবীগঞ্জে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠান স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেলেও সামগ্রিক অবক্ষয় রোধে ব্যাপক উদ্যোগ এবং কাঠামোগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।