পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৭নং হাড়িভাসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নুর-ই-আলম-এর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ জেলা প্রশাসকের দিকেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীর তথ্যে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান একই সঙ্গে দাখিল মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকার ফলে দুটি প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন; ইউনিয়ন পরিষদের একটি মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন; জ্বালানি তেলের খরচ অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে এবং ভিজিডি চাল পরিবহনের ভাড়া বৈধ প্রয়োজনে নয় বলে পরিষদের হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগের মূল পয়েন্ট
- দুই প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতা: চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও অভিযোগে উঠে এসেছে তিনি মাদরাসায় চাকরি করছেন এবং পরিষদের প্রদত্ত সম্মানি ভাতা নেন। অভিযোগকারী মনে করেন এটি দ্বৈত সুবিধা ও অনৈতিক চুক্তি।
- মোটরসাইকেলের অননুমোদিত ব্যবহার: ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ করা মোটরসাইকেলটি সরকারি কাজে ব্যবহার না করে চেয়ারম্যান বাড়িতে রেখে পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন বলে বলা হয়েছে।
- অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ: সাপ্লাই ও হিসাব অনুযায়ী মাসিক জ্বালানি খরচ সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা নেওয়ার বিধান থাকলেও গত কয়েক মাসে ৩০০০-৫০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
- ভিজিডি চাল পরিবহন ভাড়া উত্তোলন: গত বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ভিজিডি চাল পরিবহনের পেছনে ২৪ হাজার টাকা পরিষদের হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ও চেয়ারম্যানের বক্তব্য
অভিযোগটি দায়ের করেছেন দামুপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদার রহমান, যা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগে বিস্তারিত হিসেবে পরিষদের হিসাব প্রয়োগ ও প্রতিপালন সংক্রান্ত বিপর্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
"মাদরাসায় চাকরি করি এজন্য বেতন নেওয়া হয়। আর পরিষদের বেতনভাতা সরকার দেয়, না দিলে নিবোনা। চেয়ারম্যানদের জ্বালানি ৭০০ টাকায় হয়না। যখন যত খরচ হয় আমি সেই টাকা নেই। মোটরসাইকেলটি পরিষদে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল, এজন্য বাসায় নিয়ে রাখা হয়েছে। সচল রাখার জন্য মাঝে মাঝে একটু চালানো হয়।"
এটি চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নুর-ই-আলমের দেয়া বক্তব্য, যেখানে তিনি নিজেকেই আইনসম্মতভাবে বেতন গ্রহণের কথা ও মোটরসাইকেল ব্যবহারের বাস্তবতা বর্ণনা করেছেন।
প্রশাসন কী বলছে
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা অভিযোগসমূহ পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ তদন্তের নির্দেশনা দেবেন বলে সূত্রে জানানো হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
| অভিযোগ | চেয়ারম্যানের প্রতিউত্তর | প্রশাসনের অবস্থান |
|---|---|---|
| দুই প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতা গ্রহণ | মাদরাসায় চাকরি থাকায় বেতন গ্রহণে আইনত সমস্যা নেই বলে দাবি | লিখিত অভিযোগ পেয়েছে; তদন্তের প্রতিশ্রুতি |
| ইউপি মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত ব্যবহার | কার্যকর রাখার জন্য নিজ ঘরে রেখেছেন; মাঝে মাঝে চালান | তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন; প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেবে |
| অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ও ভিজিডি পরিবহন ভাড়া উত্তোলন | চেয়ারম্যান জ্বালানি খরচের বাস্তবতাকে স্মরণ করেছেন | হিসাব-নিকাশ যাচাইয়ের আশ্বাস |
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ উঠলে প্রশাসনিক তদন্ত হলে নিয়মিত পরিষদের কার্যক্রম ও সহায়তা সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—বিশেষত ভিজিডি’র মতো কর্মসূচি যেখানে ত্রাণ বা খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি মানুষের মধ্যে বিতরণ হয়। স্থানীয়রা বলেন, পরিষদের সম্পদ ও সুবিধাদির সুষ্ঠু ব্যবহার না হলে দরিদ্রদের সহযোগিতা বিলুপ্ত হতে পারে।
এই অনিয়ম অভিযোগটি স্থানীয় সরকারি পরিষদের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ওপর প্রশ্ন তোলেছে। প্রশাসন তদন্ত করে সত্যতা প্রতিষ্ঠা করলে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োগ ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন। অপরদিকে, অভিযোগকারীর দাবি-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট দফতর কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া কী ফল দেবে এবং স্থানীয় পরিষদের তহবিল ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোন পরিবর্তন আনা হবে—সেটি খতিয়ে দেখা হবে। স্থানীয় জনগণ সচেতন রয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছতা ও দ্রুততর পদক্ষেপের দাবি করছে।