পঞ্চগড়ের টুনিরহাট থেকে ভাউলাগঞ্জ হয়ে দেবীগঞ্জ পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের বেশ কয়েকটি অংশে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, কখনো কোনো সতর্কতা বা দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন হাঁটু পর্যায়ের গর্তে পরিণত; ফলে যাত্রী ও চালকেরা প্রতিদিন ভোগান্তিতে বসে এবং ছোটবড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
কোন কোন স্থানে সমস্যা বেশি
সরজমিনে দেখা গেছে যে সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ ভরা অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে নিম্নলিখিত স্থানে:
- ব্যারিস্টার বাজার থেকে কাজীপাড়া অংশ
- পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের কাকপাড়াহাট জিসি এক কিলোমিটার
- হাফিজাবাদ তালমা থেকে আম-কাঁঠালের রাস্তা
- পঞ্চগড় পৌর শহরের বানিয়াপাড়া এলাকায়
স্থানীয়রা বলছেন, এই রাস্তাগুলো প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও শতসহস্র যানবাহনের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। পণ্যবাহী যানও এই রুট ব্যবহার করে থাকে। ফলে রাস্তাটির অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বাজারে দ্রব্যমূল্য ও সরবরাহ প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
সিএনজি চালক আমিনার রহমান বলেন, যানবাহন ভাঙা এড়াতে অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তায় চলতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, “রাস্তাটি মেরামত করা হলেও কাজটি যেন তত্র্ষণভাবে করা হয়; কয়েকদিন পরই পিচ উঠে যায়।” পিকআপ চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন অনিম্নমানের মেরামত হওয়ার ফলে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
“আমরা চলতি অর্থবছরে রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫২ কিলোমিটারের বরাদ্দ পেয়েছি।”
এই মন্তব্যটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিউল আলমের। তিনি জানিয়েছেন যে রাজশাহী বিভাগের অনিষ্ট অংশগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।
এলজিইডির পরিকল্পনা ও সীমাবদ্ধতা
এলজিইডি জানায়, চলতি অর্থবছরে মোট ৫২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোকে প্রথমে সংস্কারের কার্যক্রমে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক একাংশে আরসিসি করার জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। কিছু অংশে আরসিসি করলে দামড়াদিঘীর ভাঙা অংশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষত স্থায়ীভাবে মেরামত করা সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন।
| বিষয় | কথিত পরিমাণ/অবস্থা |
|---|---|
| সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ | ৫২ কিলোমিটার |
| অগ্রাধিকারকৃত কাজ | শহরভিত্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ রুট |
| বর্তমান সমস্যা | পিচ ওঠা, বড় বড় গর্ত, দুর্ঘটনার ঝুঁকি |
তবে এলজিইডি সূত্র বলেছে, বরাদ্দ পেলেই অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক কারণে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব হতে পারে। এছাড়া স্থানবিশেষে ভারী যানবাহনের চাপ ও আবহাওয়ার প্রভাবও দ্রুত ক্ষয় নিয়ে আসে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
রাস্তাঘাটের তৎপর মেরামত না হলে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যার পাশাপাশি পণ্য পরিবহণে ব্যয় বেড়ে যাবে, স্কুলদূরত্বে আসা-যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়বে এবং জরুরি সেবাগুলো পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, রাস্তাটির অবস্থা অবিলম্বে স্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে না সমাধান করলে স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় প্রতিনিধিদের বক্তব্য সংগ্রহ করে দেখা যায়—নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি তোলা হয়েছে। এলজিইডি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি ও সময়মত বরাদ্দ পূরণ হলে পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অনেকে।
পঞ্চগড়ের বাসিন্দারা এখন চান সুদৃঢ়ভাবে আরসিসি ও মজবুত পিচিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘজীবী সমাধান, পাশাপাশি রাস্তায় ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিকারকর্ম পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করা হোক।