পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নে বুধবার/শুক্রবার (রিপোর্টে উল্লেখ নেই) একটি নবনির্মিত সেফটি ট্যাংকের ভেতরে সংস্কারকাজের সময় এক শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয়রা জানায়। নিহত ব্যক্তি বলরামপুর নিজধাম এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের অভিযোগ
পুলিশি এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ট্যাংকটি দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল। সেখানে কোনো পূর্বসতর্কতা বা নিরাপত্তা বিধি ছাড়াই ওই শ্রমিককে ভেতরে কাজ করার জন্য ডেকে নেওয়া হয়। কাজ শুরু করার কিছুক্ষণ পরই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্বজনদের অভিযোগ, কাজ দেওয়ার কর্তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে সময় নষ্ট করেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ট্যাংকের ভেতরেই তার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
“ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।” — দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুসা মিঞা
পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে অভিযোগ আছে যে অভিযুক্তরা একটি অটোভ্যানে করে মরদেহটি নিহতের বাড়ির উঠানেই রেখে দ্রুত সটকে পড়েন। মরদেহের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে পাঠায়।
মামলা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
নিহতের কাকা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। থানার ওসি মোঃ মুসা মিঞা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকার কারণে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
- স্থান: শালডাঙ্গা ইউনিয়ন, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়
- নিহত: বলরামপুর নিজধাম এলাকার এক শ্রমিক (নাম সূত্রে নেই)
- আচরণ: ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু
- মামলা: আটজনের বিরুদ্ধে কাকা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহের করা অভিযোগভিত্তিক মামলা
ঘটনা-সময়সূচি (প্রাথমিক)
| সময় | কার্যক্রম |
|---|---|
| সকাল | শ্রমিককে সেফটি ট্যাংকে কাজ করতে ডেকেছে |
| কিছুক্ষণ পর | বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন |
| বিকাল | ট্যাংকের ভেতরেই মৃত্যু (পরিবারের দাবি) |
| সন্ধ্যা | মরদেহ আঙ্গিনায় ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ; পুলিশ পৌঁছে ময়নাতদন্তে প্রেরণ |
স্থানীয়রা ঘটনার পরে বলছেন, শিল্প ও নির্মাণকাজের সাইটগুলোতে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করানো না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে সিলোস বা সেফটি ট্যাংক জাতীয় সংরক্ষিত স্থানে কাজ করার আগে বিশেষ সতর্কতা, পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ও রক্ষা সরঞ্জামের প্রয়োজন থাকে—যা এ ঘটনায় ছিল না বলে পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ তদন্তে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সেগুলো হচ্ছে—ট্যাংকে কাজ করানোর সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, শ্রমিককে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নেয়া হয়েছিল কি না এবং মরদেহ আঙিনায় ফেলে পালানোর দায়ে অভিযুক্তদের অবস্থান। তদন্তে সবার বিবরণ নিশ্চিত হলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানান ওসি মোঃ মুসা মিঞা।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ এলাকায় এ ধরনের ঘটনাই স্থানীয় জনজীবনে বড় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ও ন্যায্য বিচার দাবি করছেন। মামলার পরবর্তী কর্মপন্থা ও পুলিশের অভিযান সম্পর্কে স্থানীয়রা দ্রুত তথ্য জানার অপেক্ষায় রয়েছেন।