পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলায় জমি ও চা-বাগানকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে এক বিধবা নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থল শালবাহান ইউনিয়নের কুমারটোল গ্রাম। আহত নারী জমিলা খাতুন (৩৫) শনিবার তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জমিলার সাহার্য হয়ে থাকা স্বামীর দেওয়া ৩০ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চা চাষ করে তিনি এবং তার চার কন্যা জীবনযাপন করতেন। সম্প্রতি কাঁচা চা-পাতার দাম বাড়ায় একই গ্রামের আলম (৪৫) ও মোস্তফা (৬০) জমি ও বাগান নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা শুরু করে। এ নিয়ে সালিশও চলেছিল, কিন্তু অভিযোগকারীর বক্তব্য অনসুলভ হওয়ায় তর্কবিতর্ক বাড়ে।
জমিলা অভিযোগ করেন, গত ১৪ আগস্ট বিকেলে ঝগড়া- বিবাদে তাদের সাথে জড়িতরা তাকে মারধর করে। তার বিবরণে বলা আছে, আলম তাকে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করেন এবং মুখে ও গালে এলোপাতাড়ি মারেন। মোস্তফা ধাক্কা দিয়ে এনে চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেন এবং পরনে থাকা কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করায়। গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসন থেকে নিরাপত্তা এবং ঘটনার ন্যায়বিচার চান।
“স্বামীর দেওয়া জমিতে চা-বাগান করে মেয়েদের নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছি। কাঁচা চা-পাতার দাম বাড়ার পর থেকেই তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। ঘটনার দিন আমাকে বাড়ি ও বাগান থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। আমি ঘটনার বিচার চাই এবং আমার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন চা-বাগানটি রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চাই।” — জমিলা খাতুন
জমি ও চা-বাগানকে কেন্দ্র করে আগে থেকেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিবাদ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্তরা সালিশের সিদ্ধান্ত মানেননি। ঘটনাটি সম্পর্কে স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে যে, বিরোধ প্রসঙ্গটি দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল এবং কাঁচা চা-পাতার বাজারমূল্য বাড়ায় উত্তেজনা তীব্র হয়।
জমিলার লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে আলম, মোস্তফা ও তাদের মা ফিরোজা বেগমের। এছাড়া অভিযোগে আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া মডেল থানা এ ঘটনায় কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে কি না সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া সংবাদসূত্রে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা পাওয়া যায়নি।
ভূমি ও মেয়াদী সমস্যার সামাজিক প্রভাব
এই ধরনের সংঘর্ষ স্থানীয় জনজীবন ও নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ধরে। একদিকে পরিবার অবলম্বন করে থাকা বিধবা নারী, অন্যদিকে জমি ও বিপুল লাভ সম্ভাবনা চরম লোভ বাড়ায় বিরোধে আন্দোলিত করে। তেঁতুলিয়া এলাকার মত অনেক গ্রামে মৌখিকভাবে ভূমি হস্তান্তর হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা দেখা দেয়; তা নারীদের জীবিকা-উপার্জনে অস্থিরতা তৈরি করে।
এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি জমির মালিকানার লিখিত দলিল এবং অনুপ্রবেশ বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা নেয়া জরুরি বলে স্থানীয় আইনজীবীদের মত।
- জখম: জমিলা খাতুন (৩৫)
- অভিযোগপ্রাপ্ত: আলম (৪৫), মোস্তফা (৬০), ফিরোজা বেগম
- স্থান: কুমারটোল গ্রাম, শালবাহান ইউনিয়ন, তেতুলিয়া উপজেলা
- ঘটনার সময়কাল: ১৪ আগস্ট (হামলা), ১৫ আগস্ট (লিখিত অভিযোগ)
নিচে একটি টেবিলে সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্তদের নাম | আলম, মোস্তফা, ফিরোজা বেগম |
| ভুক্তভোগী | জমিলা খাতুন (৩৫) |
| অবস্থান | কুমারটোল গ্রাম, শালবাহান ইউনিয়ন |
| প্রতিবেদন | তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ |
এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ভূ-স্বত্ব, নারী সশক্তি ও স্থানীয় শান্তি রক্ষায় সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত ও দ্রুত বিচার হওয়া প্রয়োজন। আক্রান্তের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সবর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে জনগণ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
পেশাগত ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান বহাল রেখে, ঘটনার বিবরণ, অভিযোগকারীর দাবি এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যের আলোকে এখানেই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো।