পাঠ্যসূত্র ও ঘটনার সারমর্ম
পঞ্চগড় শহরের তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজায় অবস্থিত মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বৃহস্পতিবার নয়—বরং বুধবার (১২ আগস্ট) সকালেই স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে বন্ধ রাখা হয়েছে। পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, সেন্টারটিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার কারণ দেখিয়ে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
কী ঘটেছে: রোগীর করা অভিযোগ
কয়েক দিনের মধ্যে একই রোগীর তিনটি এসজিপিটি (SGPT) পরীক্ষায় বিশাল পার্থক্য ধরা পড়ায় সন্দেহ হলে ভুক্তভোগী সাইদুজ্জামান রেজা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ঘটনার কড়ি হচ্ছে—প্রথমে তিনি ৯ আগস্ট পঞ্চগড়ের মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে পরীক্ষা করান; ওই পরীক্ষায় এসজিপিটির মাত্রা ছিল ১২৭ ইউ/এল। পরবর্তীতে একইদিন মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করানো পরীক্ষায় রিপোর্টে দেখা যায় মাত্র ২৬.৭ ইউ/এল। সন্দেহজনক পার্থক্যের পর চিকিৎসকের পরামর্শে ১০ আগস্ট পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে করা তৃতীয় পরীক্ষায় ফল আসে ১২১ ইউ/এল।
পরিদর্শন—ফলাফল ও নির্দেশনা
উক্ত তিনটি ফলের মধ্যে বড় প্রভেদকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভিল সার্জন অফিসের কর্তারা মেডিকেয়ার সেন্টারে জরুরি পরিদর্শন করেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় রেকর্ড অপ্রতুল বা অনুপস্থিত পাওয়ায় সেখানে অস্থায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেন্টারের বাইরে একটি নোটিশ ঝুলিয়ে বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে। ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কাগজপত্র ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সেন্টারটি ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
রিপোর্টের তফাৎ: সম্ভাব্য ব্যাখ্যা ও উদ্বেগ
একই রোগীর একই ধরণের পরীক্ষায় এত বড় তফাৎ স্বাভাবিক নয়। এসজিপিটি লিভারের কার্যক্রম বা লিভারকে আঘাতের সূচক হওয়ায় চিকিৎসকরা এই মানকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। উল্লেখ্য, সূত্রগুলো অনুযায়ী প্রথম ও তৃতীয় পরীক্ষার মান প্রায় একই (১২৭ ও ১২১ ইউ/এল), যেখানে মধ্যবর্তী মেডিকেয়ারের রিপোর্টটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম (২৬.৭ ইউ/এল)। এমন তফাতের কারণে রোগীর চিকিৎসা ও জীবন-নির্ণয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় জনস্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- একই রোগীর তিনটি এসজিপিটি ফল—১২৭ ইউ/এল, ২৬.৭ ইউ/এল, ১২১ ইউ/এল।
- অন্য দুই প্রতিষ্ঠানের ফল অভিন্নতা দেখায়, যেখানে মেডিকেয়ারের ফল তা থেকে অনেক কম।
- স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক তৎক্ষণাৎ তদারকি ও সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূচী: পরীক্ষার ফলের তুলনা
| তারিখ | প্রতিষ্ঠান | এসজিপিটি (U/L) |
|---|---|---|
| ০৯ আগস্ট | মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতাল | ১২৭ |
| ০৯ আগস্ট | মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার | ২৬.৭ |
| ১০ আগস্ট | পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল | ১২১ |
“কাগজপত্র যাচাই করে প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে,”
— পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান (সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী)।
স্থানীয় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা
পঞ্চগড় শহরের একটি বহুল ব্যবহৃত ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ হওয়া মানে স্থানীয় রোগীদের জন্য পরীক্ষার খরচ, সময় ও যাত্রাব্যয় বাড়তে পারে। বিশেষ করে লিভারসহ গুরত্বপূর্ণ রোগের রোগীরা এখন আর দ্রুত ফল পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। একই সময় স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্র ও মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি তৎপরতার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
যদিও প্রেস রিপোর্ট ও সিভিল সার্জনের প্রচলিত বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে, এই ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অফিসিয়াল ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মেডিকেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সংবাদসূত্রে পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ কাগজপত্র নিয়মতান্ত্রিকভাবে পূরণ ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত হলে পরবর্তী সময়ে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য শর্ত নির্ধারণ করতে পারে।
পঞ্চগড়ের রোগী ও সাধারণ জনগণ স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য ল্যাব সেবার প্রত্যাশী। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তৎপরতা এই প্রত্যাশা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রোগীদেরও উচিত পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্দেহজনক অবস্থায় একাধিক বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পুনরায় পরীক্ষা করানো।