পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক বিধবা নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে তার ভাসুর ও পরিবারের অন্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী নারী তেঁতুলিয়ার কুমারটোল গ্রামের জমিলা খাতুন (৩৫)। তিনি মঙ্গলবার তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগ
জমিলার দাবি, প্রায় তিন বছর আগে স্বামী কালাম হোসেন মৃত্যুর আগে মৌখিকভাবে তাকে ৩০ শতক জমি দিয়ে চা বাগান করার অনুরোধ করেছেন; এরপর থেকেই সে ওই জমিতে চা চাষ করে কাঁচা পাতা বিক্রি করে চার কন্যাসহ পরিবারের রুটিন চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি কাঁচা চা পাতার বাজারমূল্য বেড়ে গেলে একই বাড়ির কয়েক জন ওই চা-বাগান নিজেদের দাবি করে তা দখলের চেষ্টা শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে ঝগড়া হয় এবং পরে হামলা করে প্রতিবেশীরা।
আহত ও চিকিৎসা
হামলাকারীদের হাতে বেদম মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া জমিলাকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে জমিলার কথাগুলো পুলিশের নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
"ঘটনার বিচার চাই এবং আমার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন চা-বাগানটি রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চাই।"
অভিযুক্তদের নাম ও ভূমিকা
জমিলা যে তিনজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছে — তার ভাসুর আলম (৪৫), আরেকজন মোস্তফা (৬০) এবং তাদের মা ফিরোজা বেগম। অভিযোগে অজানা পরিচয়ের আরও তিন-চার জনেরôsob উল্লেখ আছে যারা হামলায় জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
| নাম | বয়স (বিবরণ অনুযায়ী) | দায় নেইমিত |
|---|---|---|
| আলম | 45 | জমি-দখলের চেষ্টা, মারধরে অভিযুক্ত |
| মোস্তফা | 60 | হামলায় সরাসরি জড়িত (চুল ধরে টানাহেঁচড়া) |
| ফিরোজা বেগম | বয়স উল্লিখিত নয় | হামলার সময়ে বাধা বা সহায়তার চেষ্টা—অভিযোগ আছে |
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও পূর্বের নমুনা
স্থানীয় সূত্র জানায়, জমি ও চা-বাগান নিয়ে বিরোধটি নতুন কিছু নয়; এর আগেও বিভিন্ন বার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযোগে বলা আছে, পঞ্চগড়ে কাঁচা চা পাতার মূল্যবৃদ্ধি হলে থেকে নির্দিষ্ট পরিবারের কয়েক সদস্য বাড়তি লোভে এসে জমিটি নিজেদের দাবি করে তার ওপর পুনরায় চাপ সৃষ্টি করেছে। দুর্ঘটনার দিন নিহত-নৈকট্যহীন সহায়তায় বাড়ি ও বাগান থেকে তাকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জমিলার কথায় উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশি অবস্থান ও আনুষঙ্গিক তথ্য
জমিলা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন; অভিযোগে তিনজনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সময় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো মুখপাত্রের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় নির্বাহী ও ইউএনও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন।
কমিউনিটির প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা অনুরোধ
পঞ্চগড়ের গ্রামবাংলায় জমি ও কৃষি জমি নিয়ে বিরোধ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়; বিশেষ করে একক মহিলা পরিবারপ্রধানের ক্ষেত্রে শক্তভাবে সুরক্ষা ও আইনি সহযোগিতা প্রয়োজন। জমিলা অভিযোগ করেছেন যে তিনি ঘটনার ন্যায়বিচারের পাশাপাশি প্রশাসন থেকে নিরাপত্তা এবং চা-বাগানটি রক্ষার দাবি রাখেন।
- অভিযোগকারী: জমিলা খাতুন (৩৫)
- অভিযোগিত: আলম (৪৫), মোস্তফা (৬০), ফিরোজা বেগম এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ৩-৪ জন
- ঘটনাস্থল: তেঁতুলিয়া উপজেলার কুমারটোল গ্রাম
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও তৎপরতা এখনও হাতে-কলমে দেখা বাকি। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের শান্তি সন্ধান ও আইনি মীমাংসা না হলে সামাজিক উত্তেজনা ও নারী নিরাপত্তা সংকট লম্বা সময় স্থায়ী হতে পারে।
WE NEWS পঞ্চগড় বিভাগ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন, থানার প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ মেনে চললে আপডেট প্রদান করবে।