পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ-এর চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নুর ই আলমের বিরুদ্ধে দরজায় দরজায় পৌঁছানো অভিযোগে বলা হয়েছে যে তিনি একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন, ইউনিয়ন পরিষদের রাতে-পোড়া সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন এবং ভিজিডি চাল পরিবহনের নামে স্থানীয় হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগটি লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন দামুপাড়া এলাকার জনস্বার্থকর্মী ফরিদার রহমান।
অভিযোগের প্রধান দফা
অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে—
- চেয়ারম্যান একই সঙ্গে মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে বেতন-ভাতা পাওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সম্মানী ভাতা ও উপজেলা ভাতা নিচ্ছেন।
- গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প থেকে ইউনিয়ন পরিষদকে প্রদত্ত মোটরসাইকেলটি পরিষদের কাজে ব্যবহার করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান সেটি নিজ বাড়িতে রেখে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন।
- ভিজিডি (ভিজিডি) চাল পরিবহনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ২৪ হাজার টাকা—যা অভিযোগে বলা হয়েছে প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষ (মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর) থেকে সরাসরি দেওয়া হওয়ার কথা ছিল।
- চেয়ারম্যানের জন্য অনুমোদিত মাসিক জ্বালানি খরচ সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা হওয়া সত্ত্বেও গত কয়েক মাসে তা ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে অভিযোগ আছে।
আইনি ও প্রশাসনিক প্রসঙ্গ
অভিযোগে নির্দিষ্ট এক বিধি উদ্ধৃত করা হয়েছে—গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক (তারিখ ও নম্বর উল্লেখ করে) যেখানে বলা আছে যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক একই সঙ্গে চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মানী ভাতা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না। অভিযোগকারীর দাবি—এখানেই আইনবহির্ভূততা স্পষ্ট।
ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর শাহাদাত হোসেন অভিযোগে জুড়ে বলেছেন, তিনি যোগদানের পর থেকে মোটরসাইকেলটি পরিষদের কাজে দেখছেন না। সার্বিক ভাবনায় অভিযোগকারী আশঙ্কা করছেন যে ইউনিয়ন পরিষদের সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সরকারি তহবিলের অনুপযুক্ত উত্তোলন ঘটেছে।
চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া
“মাদ্রাসায় চাকুরি করি এজন্য বেতন নেওয়া হয়। আর পরিষদের বেতনভাতা সরকার দেয়, না দিলে নিবোনা। এটার ব্যাখ্যা ইউএনও অফিস দিতে পারবেন।”
উপরের বক্তব্যে চেয়ারম্যান দাবি করেছেন যে মাদ্রাসায় তার নিয়োগ বৈধ এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া সম্মানী ভাতা আলাদা। তবে তিনি ভিজিডি পরিবহনের খরচ, মোটরসাইকেল ব্যবহারের বিষয় ও জ্বালানি ব্যয়ের সম্পর্কিত অভিযোগের সব দিক তুলে ধরেননি।
কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি
অভিযোগ জমা পড়ার পর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে যে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে ও কখন তদন্ত শুরু করবে সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট সময়রেখা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নবোধক পরিস্থিতি
স্থানীয় জনগণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে সেবা ও সরকারি কর্মসূচির সরাসরি বাহক। এমন অভিযোগ পরিবেশ করলে সরকারি সম্পদের স্বচ্ছতা ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রশ্ন জাগে। বিষয়গুলো যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে স্থানীয় জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংক্ষিপ্ত তথ্যসূচি
| আইটেম | অভিযোগিত বিবরণ |
|---|---|
| বেতন-ভাতা গ্রহণ | মাদরাসা (বেতন) ও ইউনিয়ন পরিষদ/উপজেলা (সম্মানী ও ভাতা) একই সময়ে গ্রহণ |
| ইউপি মোটরসাইকেল | গ্রাম আদালত প্রকল্পের মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ |
| ভিজিডি পরিবহন খরচ | ইউনিয়ন হিসাব থেকে উত্তোলিত ২৪,০০০ টাকা — অভিযোগে অনুপযুক্ত দাবি |
| জ্বালানি ব্যয় | অনুমোদিত ৭০০ টাকা বনাম দাবিকৃত ৩,০০০–৫,০০০ টাকা |
এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করলে সেই ফলাফল ও প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য সংবাদ মাধ্যমে জানানো হবে। তৎপরতাহীনতা ও দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে স্থানীয় সেবা কার্যক্রমে ত্রুটি দেখা দিতে পারে—এটি তদন্তকারী ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্ব বহন করে।
পঞ্চগড় সদর থেকে রিপোর্টিং—এ ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।