পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ভাণ্ডারু গ্রামে বুধবার রাতে একটি পরিবারিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির মাঝেই বৈদ্যুতিক স্পর্শে একজন নারী মারা গেছেন। নিহতের নাম রসেনা বেগম (৫০), তিনি ওই গ্রামের ইলিয়াস প্রামাণিকের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই মৃত্যু ঘটে মেয়ের বিয়ের ঠিক আগের রাতে—একটি বিলাসবহুল অনুষ্ঠান নয়, বরং বাড়ি শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ততার সময়ে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও পরিবারের ভোটব্যক্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিয়ের শেষ প্রস্তুতি চলছিল। অতিথি আপ্যায়নের ব্যবস্থার জন্য বাড়ির গোয়ালঘরে একটি গরু জবাই করা হয় এবং বাড়িতে আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সময় রসেনা বেগম গোয়ালঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ চালু করতে যান।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুইচের পাশে ঝুলে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারে তাঁর হাত লাগলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন। স্বজনেরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পক্ষপর্যায়ের বক্তব্য
‘ফুপুর মৃত্যুতে বিয়ের সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।’
এই কথা বলেন নিহত রসেনা বেগমের ভাতিজা সাইফুল ইসলাম, তিনি জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের একমাত্র ছেলে বর্তমানে সৌদি আরবে থাকায় বিয়ের নতুন তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে।
পুলিশ রিপোর্ট ও আইনি পদক্ষেপ
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পুলিশ এখনও পুলিশিকভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনাজনিত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বলে দর্শানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিয়ের মতো শুভ আয়োজনের সামনে এমন আকস্মিক মৃত্যু পুরো পরিবার ও গ্রামটিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকাহত। বহুকাল ধরে চলে আসা সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও প্রতিকার বিষয়ক প্রাসঙ্গিক তথ্য
এই ধরনের ঘটনাগুলোতে সাধারণত ঘরের অস্থায়ী আলোকসজ্জা, ছেঁড়া বা খোলা তার, ভেজা পরিবেশ কিংবা সুইচবোর্ডের অনুপযুক্ত স্থাপন সমস্যা বাড়ায়। স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাকে জানানো হলে তারা নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সচেতনতা বাড়াতে পারে।
- ঘরের বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় শুষ্ক মাটি ও হাত থাকা উচিত।
- নিরাপদ ও সঠিকভাবে ইন্সুলেটেড তার ব্যবহার করা জরুরি।
- গোয়ালঘর বা বাইরে স্থাপন করা সুইচ-বোর্ডে যথাযথ আবরণ ও উচ্চতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
| ঘটনার সময়রেখা | বিবরণ |
|---|---|
| বুধবার রাত সাড়ে ১০টা | বিয়ের প্রস্তুতির সময় রসেনা বেগম গোয়ালঘরের সুইচ চালু করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন |
| বলিষ্ঠভাবে উল্লেখিত পরবর্তী দিন | পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মৃত্যু নিশ্চিত; জানাজা ও দাফন সারাদেশের প্রচলিত রীতিতে সম্পন্ন |
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের কাছ থেকে কোন তাত্কালিক কার্যকর নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি—কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান ছাড়া। পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা চায়।
পঞ্চগড়ের গ্রামীণ এলাকায় এখনও অনেক বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও তারের ব্যাবস্থা আদর্শমতো নেই; ফলে উৎসব ও জনসমাগমের সময় অর্ধ-অস্থায়ী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনাই তুলে যায় বড় ঝুঁকি। এই ঘটনার ফলে সুনির্দিষ্ট তদন্ত চালিয়ে নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের দাবি করছেন কিছু স্থানীয়রা।
পুলিশি তদন্তে যদি অন্য কোন দোষ বা অবহেলা শনাক্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে স্থানীয় ওসি জানিয়েছেন।