শিক্ষা পঞ্চগড় পঞ্চগড় (31)

পঞ্চগড়ের তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবারের এসএসসিতে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস হয়নি

পঞ্চগড়ের বোদা ও তেঁতুলিয়া উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবারে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলধারায় ফিরিয়ে আনবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পঞ্চগড়ের তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবারের এসএসসিতে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস হয়নি
©অলংকরণ ফারহানা রহমান / we-news.com

পঞ্চগড় জেলায় এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ির বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বোদা সরদারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা—এই তিন প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা সকলেই অকৃতকার্য হয়েছেন।

সংখ্যার সংক্ষিপ্ত চিত্র

প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার্থী (এবার) পাস
বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
বোদা সরদারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা ২১

বিদ্যালয় পরিদর্শন ও স্থানীয় চিত্র

উপজেলা পর্যায়ে দুইটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়—বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকা কথা থাকলেও রেকর্ড অনুযায়ী প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর জায়গায় জানুয়ারির অভিজ্ঞতায় দুপুরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র কয়েকজন; একই সময়ে তিনজন শিক্ষক থাকলেও প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা অনুপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের কথায় নিয়মিত পাঠদান বিঘ্নিত এবং শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম।

বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি; প্রতিষ্ঠানটির একটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল এবং পাশে টিনের ছাউনি সহ বড় কক্ষটির দরজা-জানালা ও বেড়া অনুপস্থিত। উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের পর্যাপ্ত তথ্যও মিলেনি।

“আমাদের স্কুল থেকে এবার একজন পরীক্ষা দিয়েছে। সে ফেল করেছে। সে পড়ালেখায় দুর্বল ছিল।”

এই মন্তব্যটি বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ললিতা রানীর। তিনি বিদ্যালয়ের এক পরীক্ষার্থীর ফল নিয়ে এ বক্তব্য দিয়েছেন।

উপজেলা ও জেলা শিক্ষাবিভাগের প্রতিক্রিয়া

বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম ফলাফলের ভিত্তিতে বলেন, এই দুটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদানের ধারাবাহিকতা ছিল না এবং উভয়টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান। তিনি জানান, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ও তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার তথ্যসহ পুরো বিষয়টি যাচাই করছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগগুলো মূলত তিনটি দিক ঘিরে বলিষ্ঠভাবে এসেছে:

  • শিক্ষক উপস্থিতির অনিয়মিততা ও নিয়মিত পাঠদান না থাকা।
  • প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত দুরবস্থা ও সাইনবোর্ড-সহ প্রশাসনিক ব্যবস্থার অনুপস্থিতি।
  • কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৎপরতা কম থাকা।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, এক বা দু'জন পরীক্ষার্থী ফেল করলে তা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনার অনিয়মকে নির্দেশ করে; তেঁতুলিয়া দাখিল মাদ্রাসার ক্ষেত্রে ২১ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়া মিশ্র উদ্বেগের বিষয়।

শিক্ষাবিভাগের প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় অবস্থার আলোকে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চগড়ের বোদা ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের অবিচ্ছিন্নতা ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানের ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত-নিরীক্ষা, শিক্ষক-সংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক অডিটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে।

WE NEWS জেলা কার্যালয় আগের ফল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিও অবস্থান, শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি তদারকির বিষয়ে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্যোগ অনুসরণ করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জানালে আপডেট দেওয়া হবে।

ফারহানা রহমান
ফারহানা এআই শিক্ষা সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ফারহানা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

31পঞ্চগড়

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো পঞ্চগড়, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব