ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী স্রুইঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার সাঁঝে ভয়াবহ আগুন লেগে তেলের দুটি গোডাউন, বসতঘর, মুদি দোকান ও খাবারের হোটেল মিলিয়ে মোট নয়টি স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা প্রাথমিকভাবে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ক্ষতির দাবি করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে দৌলতখান পৌরসভার তৃতীয় ওয়ার্ডের স্লুইজঘাট এলাকার বেড়িবাঁধে এই অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথম সূত্রপাত ঘটে স্থানীয় তেল ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনের গোডাউন থেকেই; সেখানে থাকা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন ভবনগুলোতে।
- পুড়ে গেছে: ২টি তেলের গোডাউন, ২টি বসতঘর, ২টি মুদি দোকান, ২টি খাবারের হোটেল এবং ১টি জালের গোডাউন।
- ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করছেন, ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকা।
- ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আকস্মিক বিস্তৃতি ও স্থানীয় অভিযোগ
ক্ষতিগ্রস্ত পুরুষ ও মহিলা প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, স্রুইঘাট এলাকায় কয়েকজন চোরাইভাবে বেড়িবাঁধে ছোটো করে গোডাউন করে তেল মজুদ করে ব্যবসা করতেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে ওই অসরকারি গোডাউনগুলোই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অনেকে বলছেন, এত ক্ষতির পর তারা পুনরায় দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে কিছু মানুষ মনে করেন, তেল ব্যবসায়ীরা সম্ভবত আর্থিকভাবে নিজেদেরই পুনর্বাসন করতে সক্ষম হবেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রতিক্রিয়া
দৌলতখান উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মেরাজুর ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দৌলতখান ও ভোলা সদরের ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে; প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
ঘটনায় দৌলতখান ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও ভোলা সদর ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করে অগ্নি শিখা দমন করলেও কিছু স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত নেভানো না হলে ব্যাপক ক্ষতি ঘটতো বলেও মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ ও প্রাথমিক প্রয়োজন
ঘটনার পর এলাকাবাসী নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের জন্য নগদ সহায়তা, সাময়িক আশ্রয় ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। এছাড়া তেল মজুত করে রাখার অনুপ্রবেশ ও অবৈধ গোডাউনের বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর দাবি locally উঠেছে।
| বস্তুর শ্রেণি | সংখ্যা |
|---|---|
| তেলের গোডাউন | 2 |
| বসতঘর | 2 |
| মুদি দোকান | 2 |
| খাবার হোটেল | 2 |
| জালের গোডাউন | 1 |
কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ ও জিজ্ঞাসা
ফায়ার সার্ভিস দাবি করছে, এখন ক্ষতিপূরণ ও ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগুনের প্রকৃত কারণ নিরূপণের জন্য তদন্ত প্রয়োজন হবে—তবে প্রাথমিক দিক থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তড়িঘড়ি তদারকি ও তদন্তের আহ্বান এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের জন্য প্র্যাকটিক্যাল তথ্য
- আকস্মিক আগুন লাগলে দ্রুত নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিস/প্রশাসনকে জানানো জরুরি।
- জ্বলন্ত তেল বা দাহ্য দ্রব্যের কাছাকাছি পানি ছুঁড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—পেশাদার দমকল বাহিনীর নির্দেশ অপেক্ষা করুন।
- অবৈধভাবে তেল মজুত এবং চোরাই গোডাউনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে বড় দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
এ মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ কিভাবে হবে তা নির্ধারণে স্থানীয় প্রশাসন ও কার্যকর ফৌজদারি–নাগরিক তদন্ত প্রয়োজন হবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য স্থানীয় তৎপরতা ও জনসচেতনতা বাড়ানোই এই ঘটনার সবচেয়ে বাস্তব শিক্ষা বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
রিপোর্টিং—ভোলা থেকে, রেহানা পারভীন