বরাদ্দ আছে, খালই আগের মতো—কোন জায়গায় কী ঘটেছে?
ভোলা সদর উপজেলার কিছু এলাকার সার্বিক পানিকষ্ট নিরসনে সরকার চারটি খাল পূর্ণ খনন করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করে। কিন্তু স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে বিল তুলে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে; বাস্তবে খাল খনন হয়নি। এতে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সম্পর্কিত চলমান সমস্যা বিদ্যমান রেখেছে একে‑একটা গ্রামের জীবনযাত্রা ও কৃষি কর্মকাণ্ডকে ঝুঁকিতে।
স্থানীয় অভিযোগ ও প্রশাসনের স্থিতি
ইলিশা বাস স্ট্যান্ড থেকে চৌদ্দ ঘর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। ওই খালটি পূর্ণ খনন করার জন্য সরকারের বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। স্থানীয়দের দাবি, মাটি কাটা তো দূরের কথা, খালের বুকই আগের মতোই রয়েছে; তবু কাগজে বিল উঠিয়ে অর্থ উত্তোলন হয়েছে।
“ভোলায় ৪টি খাল পূর্ণ খননের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা সেজন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারপরেও অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।” — জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমান
জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্য স্থানীয়দের উৎকণ্ঠা কিছুটা কমালেও, ভূমিতে কোনো বাস্তব কাজ না থাকায় সন্দেহ ও ক্ষোভ অক্ষত রয়েছে। অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশাসনের কিছু লোকও জড়িত বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন; তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক কোনো তদন্ত রিপোর্ট স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি।
কৃষি বিভাগের প্রতিবেদন ও উদ্বেগ
ভোলা জেলা কৃষি বিভাগ পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চল মিলিয়ে মোট ৭৩টি খাল চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। এসবের মধ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে মোট ১৩,৮৫০ মিটার জোড়ে, চারটি খালে। কৃষি বিভাগ তাদের মধ্যে ২০টি খালকে "অতি জরুরি" এবং ৩৯টি খালকে "জরুরি" হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিভাগ নিজেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।
| বিষয় | পরিমাণ/সংখ্যা |
|---|---|
| মোট চিহ্নিত খাল | ৭৩টি |
| সরকারি কাজ শুরু হওয়া দৈর্ঘ্য | ১৩,৮৫০ মিটার |
| অতি জরুরি হিসেবে চিহ্নিত | ২০টি |
| জরুরি হিসেবে চিহ্নিত | ৩৯টি |
| একটি খালের বরাদ্দ | ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা (প্রসূত প্রতিবেদনে উল্লেখ) |
রাস্তা, খাল ও কৃষি জীবনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
খাল খনন বন্ধ থাকলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও রোগ-বালাই বৃদ্ধি পাবে, আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের নিশ্চয়তা থাকবে না—ফসল উৎপাদনে তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে। আশপাশের গ্রামের মানুষজন বলছেন, ইতিমধ্যেই অনেকে ক্ষেতে আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন কিংবা সেচের জন্য অতিরিক্ত খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাজার ও জীবিকা ভিত্তিক পরিবেশও দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- স্থানীয়দের দাবি: কাগজে খাল খনন হয়ে বিল উঠেছে, বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
- কৃষি বিভাগের রিপোর্ট: ৭৩টি খাল চিহ্নিত; ২০টি অতি জরুরি, ৩৯টি জরুরি।
- আর্থিক দিক: উল্লেখিত একটি খালের বরাদ্দের পরিমাণ হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের প্রধান দাবি হলো—যত দ্রুত সম্ভব সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত খাল খনন কাজ শুরু করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। জেলা প্রশাসকের কথায় তদন্ত হলে ব্যবস্থা নিলে সমস্যা মিটতে পারে, কিন্তু বসে থাকা ও বিল সংগ্রহ করা চলবে না—এটাই স্থানীয়দের অবস্থান।
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যভিত্তিক অবস্থার আলোকে ভবিষ্যতে কাজের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি, তদন্তের ফলাফল এবং খাল পুনরুদ্ধার/খনন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে ভোলা জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জনগণের কাছে তুলনামূলকভাবে দ্রুতভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।