ভোলা প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা স্থানীয় সংগঠন ‘আমরা ভোলাবাসী’ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। বক্তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানালোও এখন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের যথাযথ কর্মপরিকল্পনা দেখেননি ভোলার মানুষ।
দাবির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা তুলে ধরেন যে, সেতু হলে ভোলার সঙ্গে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্যের পরিবহন এবং পর্যটন খাতে ভোলার সম্ভাবনা বাড়বে। উপস্থিতরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শুধুমাত্র মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময় কাটালে উন্নয়ন কার্যক্রম নাহয় পিছিয়ে যাবে এবং ভোলার সুযোগগুলো হারিয়ে যাবে।
সংগঠনের মূল দাবি
সংবাদ সম্মেলনে মূলত তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়:
- সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ: প্রকল্পের ধাপগুলো স্পষ্টভাবে চিত্রায়িত করে সময়সীমাসহ ঘোষণা করা।
- সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা: কোন ধাপে কি কাজ হবে, তাতে প্রয়োজনীয় তহবিল ও সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ করা।
- দ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু: পরিকল্পনা থেকে কাজ শুরুর মধ্যে বিলম্ব না করা।
সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় অংশগ্রহণ
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব মীর মোশারেফ অমি, সদস্য মেহেদি হাসান, শরিফ হাওলাদার ও শাখাওয়াত শাকিল বক্তব্য দেন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যারা একযোগে সেতু নির্মাণের দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন।
| নাম | পদবী / ভূমিকা |
|---|---|
| মীর মোশারেফ অমি | আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব |
| মেহেদি হাসান | আয়োজক কমিটির সদস্য |
| শরিফ হাওলাদার | আয়োজক কমিটির সদস্য |
| শাখাওয়াত শাকিল | আয়োজক কমিটির সদস্য |
স্থানীয় প্রত্যাশা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
ভোলাবাসীর প্রত্যাশা স্পষ্ট: সেতু নির্মাণ হলে এলাকায় ব্যবসা ও প্রাণিসম্পদ বর্ধিত হবে, রোগী-শিক্ষার্থী বহনসহ জরুরি সেবা আরও দ্রুত পৌঁছাবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা কথা শোনা যায়—বাজেট সংস্থান, প্রকৌশলগত প্রস্তুতি, পরিবেশগত অভিলেখ ইত্যাদি—যা ছাড়া একটুখানি ক্ষেত্রেই বিলম্ব ঘটে যেতে পারে। গত কয়েক বছরে আনালগাসহ বড় প্রকল্পগুলোতে সময়গত বিলম্বের অভিজ্ঞতা থাকায় স্থানীয়রা এবার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও বাস্তবায়ন সূচি চান।
তাদের বক্তব্যে বলা হয়, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়—সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই দরকার স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সময়সীমা নির্ধারণ করা। মানুষের আস্থার সঙ্গে খেলোয়াড়ি হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে নেতারা মন্তব্য করেন।
পরবর্তী ধাপ ও স্থানীয় উদ্যোগ
প্রতিবাদী এই সংগঠন জানায় তারা সেতু দাবি বাস্তবায়নের জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক ও গণমdies মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করবে এবং দরকার হলে আইনগত পথও বেছে নেবে। একই সঙ্গে তারা স্থানীয় জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান যাতে সেতু প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।
ভোলাবাসীর জন্য সেতু কেবল সংযোগ নয়—এটি তাদের উন্নয়নের দরজা, এমনটাই আশাবাদী বক্তারা। এখন প্রশ্ন রয়ে যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে এবং কখন এই দাবিগুলো বাস্তবে রূপদান করবেন। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার—তার প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সংবাদ: রেহানা পারভীন, ভোলা প্রতিনিধি, WE NEWS