স্থানীয় প্রতিবাদের নেপথ্যে কী ঘটছে
ভোলা সদর উপজেলার আশপাশের চরাঞ্চলের কৃষকরা বলছেন, বর্ষাকালে জমে থাকা পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট কমানোর লক্ষ্যে সরকারের দেয়া বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কয়েকটি খাল খনন করা হয়নি। অথচ সরকারি ডকুমেন্টে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন হয়েছে—এ নিয়ে জনস্বার্থে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়রা বিশেষভাবে ইলিশা বাস স্ট্যান্ড থেকে চৌদ্দ ঘর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খালের কথা বলছেন, যেখানে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। স্থানীয় কৃষক ও পানিবৃদ্ধি সমস্যায় ভুগছেন এমন পরিবারগুলো জানান, খালের বুক এখনো আগের অবস্থার মতোই; মাটি কাটা বা খালের পাড় দৃশ্যমানভাবে বদলায়নি।
সরকারি তপশীলতা ও কৃষি বিভাগের চিহ্নিতকরণ
ভোলা কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন যোগ করে ভূমিকা রেখেছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। জেলার কৃষি বিভাগ মোট ৭৩টি খাল চিহ্নিত করে কাজের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র মাত্র কিছু অংশে কাজ শুরু হয়েছে—দলিলভিত্তিক হিসেবে বর্তমান ট্র্যাকিংয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কাজ হয়েছে মোট ১৩,৮৫০ মিটার জুড়ে এবং কাজ করা হয়েছে কেবল ৪টি খাল-এ।
কৃষি বিভাগের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, সেখানে ২০টি খালকে "অতি জরুরি" এবং ৩৯টি খালকে "জরুরি" হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের পাঠানো রিপোর্ট বলছে, কাজ দ্রুত না হলে বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
গ্রামবাসী ও খামারিরা অভিযোগ করছেন, প্রকৃতপক্ষে খাল খনন না করে কাগজে-কলমে বিল উত্তোলন করে অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। কয়েকজন স্থানীয় জানান, প্রশাসনের আঞ্চলিক কিছু কর্মকর্তা এই অনিয়মে জড়িত—যার ফলে প্রকৃত কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে।
"ভোলায় ৪টি খাল পূর্ণ খননের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা সেজন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারপরেও অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।"
উপরোক্ত মন্তব্যটি জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমানের ব্যাখ্যা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। তিনি জানান যে কাজের গুণগতমান ও বাস্তব অগ্রগতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলেই তদন্ত করা হবে।
স্থানীয় প্রভাব এবং সম্ভাব্য ফলাফল
খাল খনন না হলে বাস্তবে কী ধরনের প্রভাব পড়বে—এ বিষয়ে কৃষকরা উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, বর্ষায় জমিতে পানি জমে ফসল নষ্টের সম্ভাবনা বাড়বে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাব হবে; ফলশ্রুতিতে আগামি মৌসুমে ধানের উৎপাদন ও আয়ের ক্ষতি হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষ এবং গৃহস্থালি জীবনের জন্য সরাসরি পানি সঞ্চয় গুরুত্বপূর্ণ।
- ভোলা সদর ও সংশ্লিষ্ট চরাঞ্চলের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
- সরকারি বরাদ্দ: ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা নথিভুক্ত।
- কাজ শুরু হলেও বাস্তবে খাল খননের পরিমাপ মাত্র ১৩,৮৫০ মিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
পরবর্তী করণীয় ও প্রত্যাশা
স্থানীয় জনগণ দ্রুত তদন্ত ও ন্যায্য জবাব দাবি করছে। তারা চাইছেন—প্রথমত, কমিটি তৎপরভাবে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে প্রকৃত খাল খনন কাজের পরিমাপ নিশ্চিত করুক; দ্বিতীয়ত, যে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পেলে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হোক এবং তৃতীয়ত, বাস্তব কাজ শুরু না হলে বরাদ্দের পুনর্বিবেচনা ও পুনরায় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।
এ নিয়ে আগামী দিনে জেলা প্রশাসন, উপজেলা অফিস ও কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দফতরদের আরও ধরনের পদক্ষেপ কি নেয়া হবে—সেটি চিহ্নিত করার জন্য স্থানীয়রা ও ছড়িয়ে পড়া সংবাদপত্র অপেক্ষা করছে। খালগুলোর কাজ দ্রুত শুরু হলে ভোলা অঞ্চলের বহুবিধ সমস্যার সমাধান সম্ভব, অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষক আর ভোলা-চরের জনজীবন।
রেহানা পারভীন
ভোলা প্রতিনিধি, WE NEWS
| উল্লেখযোগ্য তথ্য | মান |
|---|---|
| চিহ্নিত খাল | ৭৩টি |
| বরাদ্দ অর্থ | ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা |
| কাজ শুরু হওয়া দৈর্ঘ্য | ১৩,৮৫০ মিটার |
| অতি জরুরি | ২০টি |
| জরুরি | ৩৯টি |