ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে ঘটে যাওয়া স্বামী হত্যা ও মরদেহ টুকরো করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত আজ মঙ্গলবার প্রধান আসামি নুরুন্নাহার বেগম-কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে তাকে ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। রায় প্রদান করেন ভোলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ।
মামলার পটভূমি ও হত্যার পর ঘটনা
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের মধ্যে আলীনগর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের পণ্ডিতের পোল এলাকায় লাক্স্মীপুরপাড়া সংলগ্ন একটি বাড়িতে বরফি–সংকটে এবং পারিবারিক কলহের সূত্র ধরে অত্যন্ত নাটকীয় ও নির্মমভাবে বরফি স্মরণীয় এক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের নাম ছিল ফরহাদ হোসেন টিটু (রিপোর্টে বর্ণিত), যাঁর মরদেহ সকালেই ওই বাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন থাকায় এবং বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগেও ছিল।
অনুসন্ধান, অভিযোগ ও তদন্তের ফলাফল
মৃতপ্রায় অবস্থায় উদ্ধার ও পরবর্তী তদন্তে অভিযোগ ওঠে যে ঘটনাস্থলে টিকিটে ঘুমিয়ে পড়ার পর নুরুন্নাহার দা দিয়ে তার স্বামীকে কোপানিত করেন এবং পরে মরদেহের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন করারও অভিযোগ ছিল। ঘটনার পর বাদী হিসেবে প্রথম স্ত্রী মাহমুদা বেগম মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ তিনিও ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ থাকলেও অপর পাঁচজনের ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি মঞ্জুর করে। ফলে বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত প্রধান আসামি নুরুন্নাহার বেগমের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীভূত ছিল।
- ঘটনার তারিখ: ২৩-২৪ অক্টোবর ২০২১ (রিপোর্টভেদে দিনসীমার পার্থক্য বর্ণিত)
- মামলা দায়েরকারী: নিহতের প্রথম স্ত্রী মাহমুদা বেগম
- বিচারক: মো. এনায়েত উল্লাহ (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ‑২, ভোলা)
- রায়: মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০,০০০ টাকা জরিমানা
বিচার প্রক্রিয়া ও রায়ের দিন
রায়ের আগে সাক্ষ্য শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়েই তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। বিচারিক কার্যক্রিয়ায় নুরুন্নাহার দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন; পরে জামিনে মুক্তি পান, কিন্তু মামলার একটি পর্যায়ে আবারও জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ হয় এবং তখন থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পরে বিচারক নুরুন্নাহারকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
"এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। বিজ্ঞ বিচারকের এমন রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদী উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট।"
উপরের মন্তব্যটি মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বাচ্চু করেন। আসামিপক্ষের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. এনামুল হক।
| আইটেম | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | আলীনগর ইউনিয়ন, রুহিতা গ্রাম, পণ্ডিতের পোল এলাকা (ভোলা সদর) |
| নির্দিষ্ট অভিযোগ | হত্যা, মরদেহ টুকরো করার অভিযোগ |
| আলোচিত রায় | মৃত্যুদণ্ড + ৫০,০০০ টাকা জরিমানা |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি
রায় ঘোষণার পর ভোলার আলীনগর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের নির্মম ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া ও আদালতের রায়কে স্থানীয়রা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। মামলার দীর্ঘ সময়কাল, তদন্তের কিছু দিক এবং প্রাথমিকভাবে অপর পাঁচজনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্থানীয় মানুষের কৌতূহল বিদ্যমান।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে এবং নারী-পুরুষের মধ্যে বাড়তে থাকা জটিল পারিবারিক কলহ দ্রুত নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় কি না— তা নজরে রাখার বিষয় হবে। বিচারপ্রক্রিয়ার এই ফলাফলে ভোলা সম্প্রদায়ে আইন ও ন্যায়বিচারের ওপরে আলোচনাও বাড়তে পারে।
মামলার নথি ও রায়ের সারসংক্ষেপ সাধারণত উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ সৃষ্টি করে; তাই এই রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে তার পরিবর্তন বা স্থায়ীকরণ হবে উচ্চ আদালতের ওপর। স্থানীয় ও সরকারি সূত্রে মামলার পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে তা সংবাদ মাধ্যমে জানানো হবে।
রিপোর্ট: ভোলা থেকে