ভোলার দৌলতখান উপজেলায় অবৈধভাবে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন তেল মজুত রাখার একটি মতোজ্য গোডাউনে আগুন লেগে আশপাশের কয়েকটি স্থাপনা পুড়ে গেছে। স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে দৌলতখান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাধ বা স্লুইজঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সারমর্ম ও উদ্ধারকাজ
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে তেল ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনের গোডাউন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশ্ববর্তী গোডাউনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়; তবে কিছু প্রতিবেদন বলছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে দুই ঘন্টার মতো সময় লেগেছে।
প্রাথমিক উদ্ধার ও তৎপরতা:
- দৌলতখান ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও ভোলা সদর ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে তৎপর ছিল।
- স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিস মিলিয়ে আগুন নেভাতে কাজ করেন এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
- আহত তিনজনকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ও চিকিত্সা চলছে।
ক্ষতিসংখ্যা ও আর্থিক ক্ষতির ধারনা
ঘটনায় কত স্থাপনা সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে বিষয়ে ভিন্ন বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় কিছু সূত্র ও সংবাদে বলা হয়েছে মোট ৬টি তেলের গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে; অন্য কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মোট নয়টি স্থাপনা—তেলের গোডাউন, বসতঘর, মুদি দোকান, খাবার হোটেল ও একটি জালের গোডাউন—পুড়ে গেছে।
| বিবরণ | সূত্র অনুযায়ী |
|---|---|
| পুড়ে যাওয়া তেলের গোডাউন | ৬টি (কিছু রিপোর্টে ২টি উল্লেখ আছে) |
| মোট ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা | কিছু রিপোর্টে ৯টি পর্যন্ত (বসতঘর, দোকান, খাবার হোটেলসহ) |
| আহত | ৩জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন |
| আর্থিক ক্ষতির প্রথম ধারণা | বিবিন্ন বক্তব্যে প্রাথমিকভাবে আধা কোটি থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত উল্লেখ আছে |
স্থানীয়দের অভিযোগ ও কারণ
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে এসব গোডাউনে তেল মজুদ করার কোনো আইনসম্মত লাইসেন্স নেই। তাঁরা বলেন, স্লুইজঘাট বেড়িবাঁধ এলাকায় কয়েকজন প্রতারণার মতো করে অবৈধভাবে তেল মজুত করে ব্যবসা করেছেন, ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকি বেড়েছে।
“গোডাউনে লাইসেন্স ছিল না, হাঁসফাঁস করে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। আমাদের ঘর ও দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,”
ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার বলেছে যে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী আগুনের সূত্রপাত ওই অবৈধ তেল মজুতকেন্দ্র থেকেই। একাধিক সূত্রে বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ বলা হলেও কিছু প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনাও উল্লেখ আছে। অবশ্যই আগুনের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চালানো হবে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাবও পরে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও করণীয়
ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে; আশেপাশের বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছেন এবং প্রাথমিক পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ঘটনা ভোলার জন্য সতর্কবার্তা স্বরূপ—অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ ও সঠিক অনুমোদন না থাকা হলে তা স্থানীয় মানুষ ও সম্পত্তির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক দায়-দাবি ও ক্ষতিপূরণের বিষয় চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না।
এই প্রতিবেদনে ছাপা তথ্য স্থানীয় উদ্ধারকর্মী, প্রশাসন ও বহুজাতিক সংবাদসূত্র থেকে সংগ্রহ করা। ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত, ক্ষতিপূরণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফল অনুসারে পরবর্তী প্রতিবেদন নজরে রাখা হবে।
রিপোর্ট: ভোলা প্রতিনিধি, WE NEWS