বান্দরবান পার্বত্য জেলার দুর্গম পর্যটন এলাকা দীর্ঘ ১৭ দিন পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী থানচি ও রুমা উপজেলার মোট সাতটি সড়ক ও দর্শনীয় স্থান পুনরায় পর্যটকদের চলাচলের জন্য খোলা হয়েছে।
কোন কোন স্থান খোলা হলো
জেলা প্রশাসনের জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত স্থানগুলো হলো—
- থানচি উপজেলার তমাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার ব্যাপী তিন্দু পর্যন্ত সড়ক
- থানচি: তিন্দুমুখ থেকে নাফাকুম পর্যন্ত সড়ক ও পর্যটন এলাকা
- রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত এলাকা
- রিজুক ঝর্ণা এলাকা
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব সড়ক ও পর্যটন এলাকার চলাচল পুনরায় খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তটি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা
প্রশাসন ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সড়ক ও স্থানসমূহে থাকা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সব বিধি, নিষেধ ও নির্দেশনা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সেইসঙ্গে জনস্বার্থে এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে—এমন কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
"জনস্বার্থে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে,"
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে কোনও নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও তৎপরতার অভাব নেই—এমন ধাঁচে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যটন-বাণিজ্যের উপর প্রভাব
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পথে পুনরায় চলাচল শুরু হওয়ায় পর্যটন খাতে ধীরস্থিরভাবে জীবনীশক্তি ফিরবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গাইডরা। ছোট হোটেল, গেস্টহাউস ও ট্র্যাভেল সার্ভিসের কর্মীরা বলেন, মরসুমে পর্যটক না এলেই আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে প্রশাসনের ঘোষণার পরপরই ভ্রমণ শুরু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে অনুকূল প্রভাব পড়বে।
তবে প্রশাসনের নির্দিষ্ট নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মানা না হলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও পরিবেশগত চাপ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষত রিজুক ঝর্ণা ও কেওক্রাডং রিজিয়নের সংবেদনশীল প্রতিবেশ সৌন্দর্য রক্ষায় সজাগ থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ভ্রমণকারী ও স্থানীয়দের জন্য তথ্য
| আইটেম | বর্ণনা |
|---|---|
| প্রকাশের তারিখ | ১১ আগস্ট (জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত) |
| উন্মুক্ত স্থান | তমাতুঙ্গী–তিন্দু, তিন্দুমুখ–নাফাকুম, কেওক্রাডং–সুংসুংপাড়া, রিজুক ঝর্ণা |
| নির্দেশনা | নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক |
ভ্রমণকারীদের জন্য প্রশাসন সুপারিশ করেছে—গ্রুপ ধরে চলাচল করলে ভালো, নির্ধারিত পথ ও সতর্কতা ছাড়া পাহাড় ঢুকে যাওয়া ঠিক হবে না এবং পরিবেশে আবর্জনা ফেলবে না। স্থানীয় গাইড নিয়োগ নিরাপদ ভ্রমণের জন্য উপকারী হবে।
স্থানীয়রা জানান, পর্যটন এলাকা খোলার খবর পেয়ে ইতোমধ্যেই কয়েকটি গাইড ও পরিবহন সেবা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে পাকা রাস্তা ও অবকাঠামো সবখানে সমান নয়; ফলে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আগে জিরো-স্থানের খবর নিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞরা।
জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ এটি পর্যটকদের পদচারণায় বান্দরবানের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছেন—প্রশাসন নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে তৎপর থাকবে।
এলাকাভিত্তিক আরও বিকাশ ও নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন ব্যবসায়ী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে—এমন পরামর্শ স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য: জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জনস্বার্থে এ ঘোষণা জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।