বান্দরবানের জেলা শহরে বৃহস্পতিবার সকালে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। আয়োজনটি ছিল বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, যারা ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ও বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
কোর্স ও অংশগ্রহণ
উদ্বোধনকালে organisers জানায়, প্রথম ধাপে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা—এই তিনটি ভাষায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতি বছরে এই তিনটি কোর্স মিলিয়ে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ লাভ করবেন; প্রতিটি ভাষায় শেখানো হবে ৩০ জনকে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর ভাষাও এই তালিকায় যোগ করা হবে।
অনুষ্ঠান ও সংরক্ষণ উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ভাষা প্রশিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কমান্ডার আরিফুল ইসলাম প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণও বিতরণ করেন।
উদ্যোগ পরিচালনা করছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট; ইনস্টিটিউটের পরিচালক নু ক্রাসিং মার্মা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই ধরনের কার্যক্রমকে স্থানীয় ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখেছেন অংশগ্রহণকারীরা।
সংস্কৃতির প্রদর্শনী
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে একটি র্যাম্প শো অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বান্দরবানে বসবাসরত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। র্যাম্প শোতে বর্ণিল সাজে বিভিন্ন গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় এবং স্থানীয় পোশাক-গৃহীত নান্দনিকতা দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করে।
- উদ্বোধিত ভাষা: মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা
- প্রতি ভাষার প্রশিক্ষণশিক্ষার্থীর সংখ্যা: ৩০ জন
- প্রথম ধাপে মোট অংশগ্রহণকারী: ৯০ জন
কারিগরি ও শিক্ষাগত লক্ষ্য
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য কেবল ভাষা শেখানো নয়—এটি স্থানীয় পর্যায়ে মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা ও ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সংস্কৃতি-ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সাহায্য করবে। স্থানীয় শিক্ষক ও ভাষা প্রশিক্ষকরা তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক উপায়ে ভাষা শিক্ষাদানে লাগবে।
প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম বলেন, সামরিক ও সিভিল সংস্থার অংশগ্রহণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। (উক্তি প্রদান না থাকায় সরাসরি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়নি)।
আচরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আয়োজকরা জানিয়েছেন, চালু হওয়া তিনটি ভাষার কার্যক্রম ফলপ্রসূ হলে আরও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম শুরু করা হবে। কোর্সগুলো কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা হবে এবং স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কীভাবে সংযুক্ত করা হবে—এসব বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করা হতে পারে।
| ভাষা | প্রশিক্ষণার্থী (প্রতি ভাষায়) |
|---|---|
| মারমা | ৩০ |
| তঞ্চঙ্গ্যা | ৩০ |
| ত্রিপুরা | ৩০ |
এ উদ্যোগে সেনাবাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অংশীদারিত্ব লক্ষ্যনীয়। স্থানীয় পর্যায়ে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষাকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ এলাকার সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
বান্দরবানের প্রতিটি দূরবর্তী অঞ্চলেই ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য গভীর; তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ালে কোর্সগুলো আরও প্রাসঙ্গিক এবং টেকসই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।