সমাজ বান্দরবান বান্দরবান (40)

বান্দরবানেই সেনাবাহিনীর ভাষা শিক্ষা উদ্যোগ: মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ভাষায় কোর্স শুরু

সেনাবাহিনী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় বান্দরবানে তিনটি ভাষা শিক্ষা কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে—প্রতি কোর্সে ৩০ জন করে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বান্দরবানেই সেনাবাহিনীর ভাষা শিক্ষা উদ্যোগ: মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ভাষায় কোর্স শুরু
©অলংকরণ উম্মে হাবিবা / we-news.com

বান্দরবানের পার্বত্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী। বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) 오전 কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনটি ভাষা শিক্ষা কোর্স উদ্বোধন করা হয়, যা প্রথম পর্যায়ে চালু করা হয়েছে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরা ভাষায়।

উদ্বোধন ও অংশগ্রহণকারী

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সেনাবাহিনী বান্দরবানের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম. অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ, বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খান এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক নুক্রাসিং মার্মা সহ অন্যান্য সেনাবাহিনী কর্মকর্তা, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

কোর্সের লক্ষ্য ও কাঠামো

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে তিনটি ভাষায় মোট ৯০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া হবে — প্রতিটি ভাষায় ৩০ জন করে। ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষাকেও পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেছিলেন,

“পার্বত্য অঞ্চলের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের ভাষা শিক্ষা কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব সত্তা টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণও প্রদান করেন। আয়োজনটি সেনাবাহিনী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য প্রভাব

স্থানীয় ভাষা শেখার এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কেবল ভাষাগত জ্ঞানই সঞ্চিত হবে না; একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি, পরম্পরা ও লোকজ নৃত্য-সংগীত সংরক্ষণে সহায়তা হবে। বান্দরবানের বহু এলাকাতে প্রজন্মের মধ্যে ভাষা-হ্রাস ঘটছে—এমন পরিস্থিতিতে সংগঠিত কোর্সগুলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্বতা রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।

  • প্রাথমিকভাবে চালু করা ভাষাসমূহ: মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা
  • প্রতি কোর্সে শিক্ষার্থী: ৩০ জন
  • মোট প্রথম পর্যায়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা: ৯০ জন
ভাষা প্রতি কোর্সে আসন
মারমা ৩০
তঞ্চঙ্গ্যা ৩০
ত্রিপুরা ৩০

স্থানীয় শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সমন্বয় করে কোর্সগুলোর বই, পাঠক্রম ও ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা হবে। আয়োজন সংক্রান্ত বিবরণে বলা হয়, পরে অন্যান্য ভাষায়ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

বান্দরবান-ভিত্তিক এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় স্তরে ভাষা সম্পদ রক্ষা ও নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করার আশা ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে এটি সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় উদ্‌যাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পর্যটন ও সামাজবদ্ধ কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উদ্যোগকারীরা।

এই নতুন ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে ভূমি বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে এগোবে এবং কত দ্রুত আঞ্চলিক অন্য ভাষাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে—তার বিস্তারিত সময়সূচি ও বাস্তবায়নকৌশল এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রথম ধাপের এই ঘোষণা থেকে বোঝা যায় যে বান্দরবানে ভাষা ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে সামরিক ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে কাজ শুরু হয়েছে।

উম্মে হাবিবা
উম্মে এআই বান্দরবান প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি উম্মে, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

40বান্দরবান

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো বান্দরবান, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব