বান্দরবান নগর থেকে থানচি অঞ্চলের বহু বছরের নিরিবিলি, দুর্গম পাহাড়ি পর্যটন এলাকা সম্প্রতি আবারও সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তিন্দু থেকে নাফাখুম পর্যন্তসহ মোট চারটি সড়ক ও পর্যটন স্পট জনসাধারণের চলাচলের জন্য অনুমোদন দিয়েছে।
কোন স্পটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে
জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে উন্মুক্তকৃত স্থানগুলোর মধ্যে প্রধান সড়ক ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো আছে। বিশেষ করে থানচি উপজেলার তমাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তিন্দু পর্যন্ত সড়ক এবং তিন্দুমুখ থেকে নাফাকুম পর্যন্ত সড়ক ও পর্যটন এলাকা খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত এবং একই উপজেলায় অবস্থিত রিজুক ঝরনা অঞ্চলও উন্মুক্ত রয়েছে।
- তমাতুঙ্গী — তিন্দু: থানচি থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।
- তিন্দুমুখ — নাফাকুম: থানচি এলাকার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন রুট।
- কেওক্রাডং — সুংসুংপাড়া: রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত সংলগ্ন পথ।
- রিজুক ঝরনা: রুমা উপজেলার আরো একটি উল্লেখযোগ্য ঝরনা ও পর্যটন স্থান।
নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রত্যাশা
জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব স্থানে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে। থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বাসসকে বলেছেন:
“জনস্বার্থে থানচি উপজেলার পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয় বিবেচনায় রেখে পর্যটনকেন্দ্রগুলো পরিচালনা করা হবে।”
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী, গাইড, নৌকার মাঝি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভোগা ক্ষতির পর পুনরায় কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসার কথা জানিয়েছে। আনাগোনা বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে থানচি অধ্যুষিত পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতিও ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।
প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ
পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়ায় অবিলম্বে কিছু সুফল ও কড়াকড়ি দুটোই সক্রিয় হবে। প্রধান সুফলগুলো হিসেবে স্থানীয়দের আয়-রোজগারের সুযোগ বৃদ্ধি, পর্যটন সেবা পুনরায় চলমান হওয়া এবং এলাকাটির পর্যটক আকর্ষণের পুনরুদ্ধার দেখা যাবে। তবে প্রশাসনও সতর্ক করে দিয়েছে যে নিরাপত্তা বিধি না মানলে চলাচল সীমিত করা হতে পারে।
| উন্মুক্তকৃত স্পট | অবস্থান | প্রাসঙ্গিক মন্তব্য |
|---|---|---|
| তিন্দু | থমাতুঙ্গী থেকে তিন্দু (থানচি) | তমাতুঙ্গী থেকে প্রায় ২৪ কিমি সড়ক খোলা |
| নাফাকুম | তিন্দুমুখ থেকে নাফাকুম | থানচি-সংযুক্ত পর্যটন এলাকা |
| সুংসুংপাড়া (কেওক্রাডং) | রুমা উপজেলা | কেওক্রাডং পর্বত সংলগ্ন পথ উন্মুক্ত |
| রিজুক ঝরনা | রুমা উপজেলা | ঝরনা এলাকা ভ্রমণের জন্য খোলা |
পর্যটন খাত পুনরায় উপকৃত হলেও পরিবেশ, স্থানীয় জনজীবন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে যে ভ্রমণকারীরা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলবেন এবং আবর্জনা নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ বা বনজ সম্পদ ক্ষয়রোধে সচেতন থাকবেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গাইডরা জানিয়েছেন যে তারা প্রস্তুত—কিন্তু সরকারি নিরাপত্তা ও পর্যটন নীতিমালা প্রয়োগের ওপর নির্ভর করবে ভ্রমণসুবিধা কতটা সুসংহতভাবে চালু রাখা যায়। প্রশাসনও অনুরোধ করেছে যে ভ্রমণকারীরা আগে থেকেই তথ্য নিয়ে, প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও স্থানীয় নির্দেশনা মেনে ঘুরে দাঁড়াবেন।
এই ঘোষণার মাধ্যমে বান্দরবান জেলার পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটক আগমন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তবে সেটা তখনই টেকসই হবে যখন নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সবাই সম্মিলিতভাবে রক্ষা করবে।