বান্দরবান শহরের নিউ গুলশান এলাকায় অবস্থিত গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি মূল্যবান গাছ গোড়া থেকে কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা ও কার্যালয় সংলগ্ন সূত্রে জানা যায়, মোট ছয়টি গাছ কাটা হয়েছে এবং কাটা কাঠ পরে শহরের উজানীপাড়ার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কাটার ধরণ ও স্থানীয় অভিযোগ
স্থানীয়রা এবং সরেজমিনে দেখা দেখে জানা গেছে, সরকারি বাসভবনের ভেতরে ও পার্শ্বে থাকা চারটি আম ও কাঁঠাল গাছ গোড়া থেকে কাটা রয়েছে। এছাড়া কার্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে থাকা একটি ঝাউ এবং একটি অর্জুন গাছও কাটা অবস্থায় দেখা গেছে। কাটা গাছের বড় বড় টুকরা বাসভবনের প্রবেশমুখে স্তূপ করে রাখা ছিল। করাতকলের শ্রমিকরা দাবি করেছেন, সেখানে শহরের বাহিরে ১০০ ফুটের বেশি কাঠ মজুত রাখা হয়েছে।
কথাবার্তা ও অভিযুক্তদের নাম
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন,
“শুরুতে ডালপালা কাটতে দেখেছি। কিন্তু কখন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, তা দেখতে পাইনি। গাছের কাঠের ট্রাক কখন বের করে নিয়ে গেছে, সেটিও বুঝতে পারিনি। বিষয়টি তদন্ত করা দরকার।”
অন্যদিকে, গণপূর্ত বিভাগের এক নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান বলেন তিনি নিজে গাছ কাটার দৃশ্য দেখেননি এবং ট্রাকে কাঠ নেওয়া সম্পর্কেও অবহিত নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কাটা হয়েছে এবং এ কাজে ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন ও গাড়িচালক ইকবাল জড়িত ছিলেন—কিন্তু বিভাগীয় পক্ষ থেকে গাছ কাটার অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশ্নবোধ
প্রচলিত বিধান অনুযায়ী সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিসরের গাছ কর্তন ও অপসারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি গাছ নিলামে বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রশ্ন উঠেছে—বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন ওই ছয়টি গাছ কাটার আগে যথাযথ অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না। বর্তমানে কোনো অনুমোদনপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র স্থানীয়তাবিদ কিংবা প্রতিবেশিরা দেখতে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
- কাটা গাছের প্রজাতি: মেহগনি, ঝাউ, অর্জুন, আম ও কাঁঠাল।
- প্রতিটি কাটা অংশের দৈর্ঘ্য: আনুমানিক ৭-১০ ফুট।
- কাটা কাঠ যেকোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে উজানীপাড়ার করাতকলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
| বিষয় | বিস্তৃতি |
|---|---|
| গাছের সংখ্যা | ৬টি |
| প্রধান প্রজাতি | মেহগনি, ঝাউ, অর্জুন, আম, কাঁঠাল |
| কাটা সময় | সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে (অভিযোগ অনুযায়ী) |
স্থানীয় ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
স্থানীয়রা বলছেন, শুরুতে গাছের ডালপালা পরিষ্কারের কথা বলা হলেও পরে কয়েকটি গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়েছে, যা পরিবেশগত এবং শহরের সৌন্দর্য রক্ষার দিক থেকে ক্ষতিকর। সরকারি যাচাই-বাছাই ছাড়া গাছ কর্তন হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয় এবং সরকারি সম্পদ বেপরোয়া ব্যবহারের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
এ মুহূর্তে অভিযোগ প্রমাণ বা অস্বীকার করতে গণপূর্ত বিভাগের উচ্চপদস্থ কার্যালয় থেকে কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক—তাই অনতিবিলম্বে প্রশাসনিক ও আইনগত তদন্ত চালানো জরুরি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বনায়ন ও পরিবেশ রক্ষার নিয়ম, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের ফলাফল ও বিভাগের আনুষ্ঠানিক Stellungnahme প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা মূলত অবগতিতে আছেন এবং দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপের প্রত্যাশা রাখছেন।
বান্দরবান থেকে রিপোর্টার, উম্মে হাবিবা, WE NEWS.