বান্দরবান সদর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মঙ্গলবার সকালে জেলা পর্যায়ের এক সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ভর্তি থাকা রোগীদের খাবার এবং সাধারণ ব্যবহার্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আয়োজন করে স্বর্গ একতা সমিতি, উজানীপাড়া শাখা।
কর্মসূচির আয়োজন ও উদ্দেশ্য
সমিতির সদস্যরা সকালেই হাসপাতাল ভবনে পৌঁছে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে খাবার ও প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী সরবরাহ করেন। পাশাপাশি হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা যাতে দ্রুত এসব সামগ্রী হাতে পায়, সেই ব্যবস্থাও করা হয়। উদ্যোগকারী সংগঠনের কথায়, মাত্রিক নয়—অতীত ও ভবিষ্যতে বিপদপূরিত মানুষদের সহায়তা, দুর্গত মানুষদের ত্রাণ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা তাদের কর্মসূচির মূল অংশ।
“আমাদের সমিতির উদ্যোগে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাশাপাশি বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ত্রান সহায়তা ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা...এই সহায়তার কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
কী দেয়া হল এবং কে উপস্থিত ছিলেন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানত খাবার ও ব্যবহার্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা আয়োজনটিতে উপস্থিত থেকে রোগীদের মধ্যে বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন এবং কিছু সামগ্রী রোগীদের জন্য সরাসরি নার্সদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
- বিতরণকৃত সামগ্রীর প্রধান শ্রেণি: খাবার ও সাধারণ ব্যবহার্য নিত্যপণ্যের প্যাকেট
- হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে হাসপাতালের নার্স ও কয়েকজন চিকিৎসকের নিকট
- উদ্যোগটি ফের চালিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সমিতির পক্ষ থেকে
এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী এবং উপস্থিতদের নাম ও দায়িত্বের সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে টেবিলে দেওয়া হলো।
| নাম | পদবী/সম্পর্ক |
|---|---|
| মংশৈনুক মার্মা | স্বর্গ একতা সমিতির সভাপতি |
| নাংফ্রা খুমী | বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও সমিতির সদস্য |
| অরুণ প্রীতি তঞ্চঙ্গ্যা | সমিতির সদস্য |
| পুরু কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা | সমিতির সদস্য |
| উসাইন মার্মা | সমিতির সদস্য |
| মো. ওমর ফারুক | সমিতির সদস্য |
| ডাবলু বড়–য়া | সমিতির সদস্য |
| মংছাই মার্মা | সমিতির সদস্য |
| ক্যজাই মার্মা | সমিতির সদস্য |
| রতন মার্মা | সমিতির সদস্য |
স্থানীয় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বান্দরবান সদর হাসপাতাল এলাকায় জন্ম নেওয়া বা এখানকার মানুষদের জন্য এমন স্থানীয় উদ্যোগ গুরুত্ব বহন করে। হাসপাতালে সময় কাটানো রোগীদের পরিবারের ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ কমাতে সামান্য হলেও সহায়ক এই ধরনের কার্যক্রম সামাজিক সংহতির প্রতিচ্ছবি। স্থানীয় সমাজসেবা সংগঠনগুলো যদি নিয়মিতভাবে এমন সহায়তা চালিয়ে যেতে পারে, তবে তা হাসপাতালের ভর্তিকৃত দরিদ্র রোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সেবা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সমিতি নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজস্ব কিংবা সরকারি তহবিলের বাইরে স্থানীয়ভাবে সংগঠিত এসব প্যাকেজ সরবরাহ করে তারা পরবর্তী সময়ে আরও প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তুতি রাখছেন। হাসপাতাল থেকেও এই ধরনের প্রয়াসকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনের সময় সমন্বিতভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন একই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েকজন প্রতিনিধিত্বকারী।
পারিবারিক পরিচর্যা ও স্থানীয় সেবাসংস্থার সহযোগিতায় রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা গেলে, কম সময়ে রোগসততা বৃদ্ধি পাবে—এই আশায় স্থানীয় সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের রোগীপ্রতিবেশী ও স্থানীয় জনগণ এই ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং আশা করছেন—অর্থিক ও সামাজিক সহায়তা আরও সম্প্রসারিত হবে।