বান্দরবান জেলার কেন্দ্রীয় রাজমাঠে রোববার সকালে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা হয়েছে। আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভা ও পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজমাঠে এসে শেষ হয়।
আয়োজনা ও অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল বান্দরবান আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে। ফোরামের সভাপতি ডা. মং উসাথোয়াই সভার সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং মারমা। সভায় বক্তব্য রাখেন থোয়াইচা প্রু মাস্টার, জিরকুং সাহু ও উছোমং মারমা সহ অন্যান্য নেতারা।
- স্থান: রাজমাঠ, বান্দরবান জেলা শহর
- প্রধান আয়োজন: আলোচনা সভা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শন, বর্ণাঢ্য র্যালি
- অংশগ্রহণকারী সম্প্রদায়: মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খুমী, লুসাই সহ মোট ১২টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
প্রধান দাবি ও বক্তব্য
সমাবেশে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ধারাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। এছাড়া আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবি তোলা হয় এবং পার্বত্য জেলায় থাকা অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদের প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বক্তারা আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
“আদিবাসীদের জীবন জীবিকা ও অস্তিত্ব সংরক্ষণে আদিবাসী সমাজের সৃজনশীল শক্তি প্রয়োগ”
উপরোক্ত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজকের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরেন এবং তাদের মৌলিক অধিকারের বিষয়গুলো স্থানীয় জনমানসের কাছে তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, শান্তি চুক্তির ধারাবলি শুধু ঘোষণা নয়—এগুলো বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ের জনগণের শিক্ষার সুযোগ, ভূমি অধিকার ও জীবনগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তা ভূমিকা রাখবে।
র্যালি ও সাংস্কৃতিক উপাদান
আলোচনা সভার পর রাজমাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজমাঠে এসে শেষ হয়। র্যালি ও অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, তরুণ-তরুণী ও সাধারণ বাসিন্দারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানস্থলে অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পোশাক ও বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে ঐতিহ্য তুলে ধরেন, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করে।
| নিয়মিত আয়োজন | উদ্দেশ্য |
|---|---|
| আলোচনা সভা | আদিবাসীর অধিকার ও শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে মত বিনিময় |
| র্যালি ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী | ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও জনমত গঠন |
স্থানীয় নেতারা বারবার জানিয়েছেন, প্রতিবছর এই দিবস পালনের মাধ্যমে আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা প্রসারে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। এ বছরও পরিচালিত এই কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়ে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, তাদের দাবি ও অনুরোধগুলোর প্রতি স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি দেওয়া হবে এবং পার্বত্য চুক্তির ধারাগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন দেখা যাবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতারা আগামী দিনে আরও সংগঠিতভাবে তাদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
নিবন্ধনবৃত্তান্ত: আয়োজন ও অংশগ্রহণসংক্রান্ত তথ্য বান্দরবানের স্থানীয় সূত্র থেকে সংগৃহীত।