বদরগঞ্জে শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ও বিকেলে বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে দলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।
সভায় কথা ও পরিকল্পনা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন যে, গতকালের অন্যায় ও নির্যাতনের পরে জনগণ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির বদরগঞ্জ ইউনিটকে ঐক্যবদ্ধ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে এবং স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন দৃঢ় করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
“দীর্ঘ ১৭ বছর জেল-জুলুম, গুম-খুনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। অধিকারবঞ্চিত মানুষ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার এবং জেলা বিএনপির সদস্য ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কাজী খয়রাত হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।
স্থানীয় উন্নয়ন—কী পরিকল্পনা তুলে ধরা হলো
সভায় সাকিলা ফারজানা বদরগঞ্জের কিছু অগ্রাধিকার ভিত্তিক উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং এসব বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করার কথাও জানান। উল্লেখিত উদ্যোগগুলো হলো—
- মহিলা কলেজ সরকারিকরণ: তিন মাসের মধ্যে সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- সড়ক ও পরিবহন অবকাঠামো: বাইপাস সড়কের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
- পথচলাচলের সুবিধা: ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলতে আলোচনা করা হবে।
- শিল্প/কৃষি প্রতিষ্ঠান: শ্যামপুর সুগার মিল চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকরে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
- স্বাস্থ্যব্যবস্থা: গুরুতর অসুস্থ বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শাহানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথাও সভায় বলা হয়।
উপরের দাবিগুলো ও পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে সভায় কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা অর্থায়নের বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়নি; বরং স্থানীয় নেতাদের একযোগে উদ্যোগ নেওয়া ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তাগিদ জানানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
রংপুর-২ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে সাকিলা ফারজানার এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও ঐক্য ফেরাতে ওয়ার্ড ভিত্তিক সংগঠন জোরদার করার নির্দেশ রাজনৈতিক কর্মীদের সক্রিয় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় ভোটপ্রক্রিয়ায় প্রস্তুতি নেয়া সুনিশ্চিত করবে।
আরেক দিক থেকে স্থানীয় উন্নয়ন উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি জেলাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা সৃষ্টি করবে; বিশেষ করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণ ও সড়ক-সেতু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো সাংকেতিক গুরুত্ব বহন করে। তবু এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কত দ্রুত ও সুচারুভাবে হবে, তা প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে—এই বাস্তবিকতা আলোচনা সভায় স্বীকারও করা হয়।
কীভাবে এগোবে সংগঠন?
সভায় দলের স্থানীয় নেতাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়—
- সব ভেদাভেদ ভুলে বদরগঞ্জে ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করা।
- স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা।
- সামাজিক ও উন্নয়নমূলক দাবি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গেও সমন্বয় করা।
সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও স্থানীয় উন্নয়ন দুটি দিকেই গুরুত্ব প্রদান করলে বদরগঞ্জে দলের কার্যক্রম শক্ত হতে পারে—এমনটাই বক্তব্য শুনা যায় নেতানেত্রীদের কাছে। সভার পর নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
| উন্নয়ন/দাবি | সভায় বক্তব্য |
|---|---|
| মহিলা কলেজ সরকারিকরণ | তিন মাসের মধ্যে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি |
| বাইপাস সড়ক | প্রধানমন্ত্রীর কাছে আলোচনা করা হবে |
| ফুটওভার ব্রিজ | প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ে তাগিদ |
| শ্যামপুর সুগার মিল চালু | আলোচনা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টার কথা |
| শাখাওয়াত হোসেন শাহানের চিকিৎসা | চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি |
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন দাবিতে এখনই তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে বদরগঞ্জে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন দেখা দিতে পারে—কিন্তু বাস্তবে কীভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবেই কেন্দ্রীয় স্তরের প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় সংগঠনের সমন্বয়ের ওপর।
স্থান: বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়াম, তারিখ: ১৫ আগস্ট।