ফরিদপুর শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, বিএনপি নেতা ও সমাজসেবী আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর মিয়া বয়স ৭২ বছর হয়ে পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। বুধবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু
পারি পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে হঠাৎ জাহাঙ্গীর মিয়ার হার্টে সমস্যা দেখা দিলে তাকে দ্রুত ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের বরাতেই বলা হয়, তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”
জানাজা ও দাফন
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বাদ আসর মরহুমের নিজ বাসভবন সংলগ্ন গোপালপুরের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহকে নিয়ে গিয়ে আলীপুর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয় সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বৃত্ত থেকে শোকাবহ প্রতিক্রিয়া
ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ এবং ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ মরহুমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
স্থানীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা এবং ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ—সহকেই তাঁকে সমবেদনা জানায়।
জীবন ও সামাজিক অবদান
জাহাঙ্গীর মিয়ার রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াও স্থানীয় সমাজসেবী হিসেবে তাঁর নাম পরিচিত। অভিযোগ ও বিচার ছাড়াই সমাজের দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন জড়িত থাকা—এসব কারণে তিনি শহরে পরিচিত মুখ ছিলেন। তার মৃত্যু এলাকার রাজনৈতিক এবং সামাজিক জীবনে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে বলে উপস্থিতরা মনে করছেন।
- মর্যাদাকর নাম: আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর মিয়া
- বয়স: ৭২ বছর
- মৃত্যুর কারণ: হৃদরোগ
- হাসপাতাল: ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল
- জানাজা ও দাফন: গোপালপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদ; আলীপুর কবরস্থান
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা একজন প্রবীণ নেতার মৃত্যু—স্থানীয় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক চক্রে শূন্যতার সৃষ্টি করবে। সামাজিক সংগঠনগুলো তার শূন্যতা অনুভব করবে বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছেন। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম কখনোই তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ হবে না বলে স্থানীয়দের একাংশ আশঙ্কা করেন না।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নামের পূর্ণরূপ | আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর মিয়া |
| বয়স | ৭২ বছর |
| মৃত্যুস্থান | ফরিদপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল |
| জানাজা | গোপালপুর, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ (বাদ আসর) |
| দাফন | আলীপুর কবরস্থান |
ফরিদপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে দীর্ঘকালীন অংশীদার হিসেবে আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর মিয়ার স্মৃতি-thumbprint হিসেবে থাকবে—স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এমনটাই মনে করেন। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এলাকার নেতাকর্মী ও অনুরাগীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
বিপ্লব সরকার
ফরিদপুর প্রতিনিধি, WE NEWS