ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমন্ডলের ডাঙ্গীর আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় শুক্রবার রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কেন্দ্র ছিল মাদক সংক্রান্ত বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে পুলিশও স্থানীয় জনগণের আক্রোশের শিকার হন এবং এক থানা ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
“ফরিদপুরে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
ঘটনার সূত্র ও খুঁটিনাটি
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট অঞ্চলের এক যুবক শাকিল ও তার কয়েকজন বন্ধু ইয়াবা সেবন করার সময় একটি ভিডিও গ্রাহিত হয়। পরে ওই ভিডিওকে দেখিয়ে এক পক্ষ—টুলু মিয়া ও তার সহযোগীরা—ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। টাকা দাবি প্রসঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে শাকিলের লোকজন টুলু মিয়াকে তা নিতে আসতে বললে তাকে মারধর করে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে তুলে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর থানায় রেখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয় মীমাংসা করলে তাকে ছাড়ানো হয়।
রাতের হামলা ও পাল্টা আক্রমণ
স্থানীয়রা বলছে প্রতিশোধ নিতে শুক্রবার বিকেলে ওমান প্রবাসী টুলু মিয়া আনুমানিক ১৫–২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আসে এবং গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড়ে মহড়া দেয়। এ সময় তারা স্থানীয় যরী মুদি দোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নানকে মারধর করে। খবর ফেলে তা ছড়িয়ে পড়লে বক্কার সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।
- বক্কার শিকদারের পক্ষের লোকজন টুলু মিয়াকে না পেয়ে তার বাবা রাজা মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জয়নাল শিকদার (৬৫) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পিটুনি দেয়।
- শোনা যায়, প্রায় কয়েক শত মানুষ এই সময় এলাকায় জড়ো হয়েছিল।
- পুলিশ আহতদের উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয়রা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে যান এবং থানার এক পিকআপভ্যান ভাঙচুর করা হয়; গাড়িটির চাবি ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
পুলিশ ও জরুরি 상황
সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অতিরিক্ত বাহিনীর সহায়তায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের আলোচনায় পরবর্তীতে কিছুটা পরিস্থিতি শিথিল হয়, তবে থানার পিকআপে ইন্ধন জ্বালানো ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
| নাম / পরিচিতি | বয়স (উল্লিখিত) | অবস্থা/ঘটনায় ভূমিকা |
|---|---|---|
| বক্কার শিকদার (লোকজনের নেতৃত্ব) | ৪২ | প্রতিপক্ষের একজন; ঘটনাস্থলে তার সমর্থকরা ছিলেন |
| ওমান প্রবাসী টুলু মিয়া | ৩৫ | অন্য পক্ষের নেতৃত্ব; ভিডিও সংক্রান্ত বিরোধের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি |
| রাজা মিয়া | ৭০ | টুলু মিয়ার পিতা; reported আহত ও উদ্ধার |
| জয়নাল শিকদার | ৬৫ | স্থানীয়; reported আহত ও উদ্ধার |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী ব্যবস্থা
স্থানীয়রা বলছে এলাকার সামাজিক পরিবেশে এমন সংঘর্ষ গভীর ক্ষত রেখে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাচলে ভীতি তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে ঘটনাটির বদনাম ও ভবিষ্যতে একই ধরণের সংঘর্ষ এড়াতে স্থানীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনের সক্রিয় সমন্বয় জরুরি বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
এই ধরণের বিবাদ আর সংঘাত রোধে স্থানীয় পর্যায়ের সন্ধানে ও মাদক সেবন ও চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসন ও থানা পর্যায়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন হবে।
বিপ্লব সরকার, ফরিদপুর প্রতিনিধি
WE NEWS