ফরিদপুর মেডিকেলে মরদেহ দেখার পর উঠলো প্রশ্ন
ফরিদপুর শহরের আল-করীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থেকে রবিবার দুপুরে এক পরিচালিত সংবাদে জেলার বোয়ালমারীর ছোলনা গ্রামের আমিন খান নামের এক যুবকের মৃত্যুর তথ্য পরিবারকে জানানো হয়। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আসেন এবং নিহতের মরদেহ পরিদর্শন করেন।
পরিবারের অভিযোগ ও দেহে পাওয়া চিহ্ন
নিহত আমিন খান বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের লোকমান খানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাস শেষে দেশে ফিরে কিছুদিন আগে বোয়ালমারী বাজারে 'আমিন খান ট্রেডার্স' নামে ব্যবসা শুরু করেন বলে জানা গেছে।
পরিবার ও কেন্দ্র সম্পর্কিত সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি তার আচরণ ও মানসিকতায় কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দেওয়ায় প্রায় ১০/১২ দিন আগে তাকে ফরিদপুর শহরের ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, মরদেহে তাদের চোখে পড়েছে হাত ও পায়ে দড়ি দিয়ে বাঁধার গভীর দাগ। নিহতের ভাই রবিউল খান অভিযোগ করে বলেন:
“এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; রিহ্যাব সেন্টারে শারীরিক নির্যাতন ও টর্চারের কারণে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।”
সিসিটিভি ফুটেজ ও পরিবারের অবস্থান
পরিবারের দাবী, কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় মৃত্যুর আগে গভীর রাতে আমিনকে হাত-পা বেঁধে ওপর থেকে চেপে রাখা হচ্ছিল। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দুপুর ১টার দিকে তাদের ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি নিয়মিত তদন্ত করে সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
- নাম: আমিন খান
- ঠিকানা: বোয়ালমারী উপজেলা, ছোলনা গ্রাম
- পরিস্থিতি: ১০/১২ দিন আগে ফরিদপুরের রিহ্যাবে ভর্তি; রবিবার দুপুরে মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও কেন্দ্র সম্পর্কে অভিযোগ
কেন্দ্রটি নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। একটি এলাকাবাসীর অভিব্যক্তি অনুযায়ী, সেখানে বিভিন্ন সময়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মারধর এবং তাদের চিৎকার শোনা যায়; পরিচালনায় অভাবও আছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভর্তি হওয়ার সময় | প্রায় ১০–১২ দিন আগে (পরিবার সূত্র) |
| মৃত্যুর সংবাদ জানানো | রবিবার দুপুর ≈ ১টা — রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ পরিবারকে জানায় |
| পরিবারের দাবি | হাত-পায়ে বাঁধার দাগ; সিসিটিভি ফুটেজে রাতে চেপে রাখার দৃশ্য; শারীরিক নির্যাতন ও টর্চার |
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্যেৎত্ত্বান্তর সূত্রে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রাথমিক রিপোর্ট সম্পর্কে এখনও কোন সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়নি। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া গ্রহণের চেষ্টা করা হলে তাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সময়ে পরিবারকে মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবার দ্রুত ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশে অভিযোগ করার পরিকল্পনা করছে। এটি ফরিদপুরবাসীর জন্য চিন্তার বিষয় হিসেবে রয়ে গেল—বিশেষত যেসব প্রতিষ্ঠান নিরাময় সেবাদি দিয়ে থাকে সেগুলো নিয়ম-কানুন ও মানবিক আচরণ কতটা মেনে চলে, তা নিয়ে জনসাধারণের প্রশ্ন জাগবে।
এই প্রতিবেদনে ব্যবহার করা তথ্যগুলো স্থানীয় পরিবার, কেন্দ্রীয় সূত্র ও হাসপাতালের পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে সংগ্রহ করা। ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে পরবর্তী পর্বে তা শিশু ও পরিবার সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনগত পদ্ধতি অনুযায়ী আপডেট করা হবে।
বিপ্লব সরকার, ফরিদপুর প্রতিনিধি, WE NEWS