বাখুন্ডায় একই পরিবারের আকিকা অনুষ্ঠানে মিষ্টি খাওয়ার পর শিশুদের ব্যথা ও বমি
ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ির আকিকা অনুষ্ঠানে বাইরে থেকে কেনা মিষ্টি খেয়ে আটটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তারা সবাই একই পরিবারের নয়—তবে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ শিশুদের সবাইকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বাখুন্ডা পূর্বপাড়ার আকরাম খানের ও মাসুদের বাড়িতে মিষ্টি পরিবেশিত হয়। স্থানীয় একজন—হারুন সরদার—অঞ্চলের খলিল মন্ডলের ‘মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডার’ থেকে মিষ্টি কিনে নিয়ে আসেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিশুরা একের পর এক বমি ও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ওরসালাইন দিয়ে চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি না ভালো হওয়ায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আট শিশুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আক্রান্ত শিশুদের নাম ও বয়স—চিকিৎসা ও পারিবারিক সূত্রে বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের নামগুলো হলো তাসফিয়া, তাওহিদ, সুমাইয়া, সামিয়া, সানভীর, শাহাদ, মাহাদি এবং সাইম। তাদের সকলের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর এর মধ্যে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | বাখুন্ডা পূর্বপাড়া, ফরিদপুর সদর |
| মিষ্টি কেনা স্থান | মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডার, খলিল মন্ডল হাট |
| প্রাথমিক চিকিৎসা | ওরসালাইন, পরে হাসপাতালে জরুরি সেবা ও ওষুধ |
| হাসপাতালে ভর্তি | ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু বিভাগ |
হাসপাতালের অবস্থান ও চিকিত্সা
হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসকরা জানান, জ্বর বা বমিহীনতা নিয়ে কয়েকজনকে জরুরি সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে—তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে চিকিৎসকরা প্রত্যাশা করছেন, তবে পর্যবেক্ষণ চলছে।
দোকান মালিকের প্রতিক্রিয়া
“আমার দোকান থেকে নিয়মিত বহু মানুষ মিষ্টি নিচ্ছেন, কেউ অসুস্থ হয়নি। আপনারা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। মিষ্টি কেনার পর অন্য কোনো কারণে বা ভেজালের কারণে এমনটা হতে পারে।”
মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডারের মালিক জিয়ারত মোল্লা ঘটনার পর এই মন্তব্য করেছেন এবং তার দোকানের পণ্যের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি দায় স্বীকার করছেন না।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও তদন্তের প্রতিশ্রুতি
চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুর রহমান মন্ডল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং বাজার কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তদন্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—তাহলেই পরিষ্কার হবে মিষ্টির সম্ভাব্য ভেজাল বা অনান্য কারণে শিশুদের অসুস্থতা ঘটেছে কিনা।
প্রভাব ও জনস্বাস্থ্য জরুরি সতর্কতা
বাজার থেকে কেনা বা বহিরাগত উৎস থেকে মিষ্টি পরিবেশনের সময় বিশেষ সতর্কতা থাকা দরকার—বিশেষত শিশুকে পরিবেশিত হলে। খাবারের গুণগত মান ও শীতল সংরক্ষণ না থাকলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা অস্বাভাবিক রাসায়নিকের কারণে বমি, ডায়রিয়া বা অন্ত্র সংক্রমণ দেখা যেতে পারে। স্থানীয় বাজার কমিটি ও স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা উচিত বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণত পরামর্শ দেন।
- ঘটনাস্থল ও বিক্রয়কেন্দ্র দ্রুত শনাক্ত করে খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করা।
- অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর খাতা, উপকরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি যাচাই করা।
- সরকারি রোগতত্ত্ব বিভাগ বা পরিচালককে পরীক্ষার নির্দেশনা ও ফল অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
এ মুহূর্তে প্রশাসন ও বাজার কমিটির তদন্ত চলছে; পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আক্রান্ত শিশুর পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা পরবর্তীতে ঘটনার বিষয়ে থানায় প্রতিকার বা অভিযোগ করলে তা আইনের আওতায় বিবেচিত হবে।
ফরিদপুর থেকে বিপ্লব সরকার রিপোর্ট করেছেন।