অপরাধ ফরিদপুর ফরিদপুর (02)

মাদরাসাছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণে দুইজনকে যাবজ্জীবন ও জরিমানা

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৭ বছরের এক মাদরাসাছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের দায়ে দুইজনকে যাবজ্জীবন ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে। অভিযোগপত্র জমা ও তদন্তের বিস্তারিত সময়রেখাajajo প্রতিবেদনে।

মাদরাসাছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণে দুইজনকে যাবজ্জীবন ও জরিমানা
©অলংকরণ বিপ্লব সরকার / we-news.com

আদালত ও রায়

ফরিদপুরে ১৭ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা ও দায়রা জজ) আজ রোববার দুপুরে দুই অভিযুক্তকে জাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ না দিলে তাদের প্রতিটি গুনাহে আরেক বছর করে অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হবে বলে আদালত সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুযায়ী ওই কিশোরী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করত। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সে বাড়ি থেকে বের হয়—প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে। প্রেমিক না পৌঁছায় বলে সে তার মামাতো ভাই রিয়াজ ব্যাপারী (২৪)-কে ফোন করে বাড়ি পাঠানোর অনুরোধ করে। রিয়াজ তাকে ফরিদপুর শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর মহল্লার সৈয়দ ফকিরের বাসায় নিয়ে যান। এর পরদিন, ১৮ অক্টোবর সকালে রিয়াজ বাইরে চলে গেলে ওই কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন সুমন মোল্লা (২১) ও মো. ওসমান ব্যাপারী (৩১) বলে পুলিশ ও অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে।

আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত

অভিযোগ পেয়ে ওই কিশোরীর মা ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সুমন, ওসমান ও রিয়াদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর ইকবাল ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আজ রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং রায় প্রদানের পর তাদের পুলিশের নজরদারিতে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ের মন্তব্য ও সম্ভাব্য প্রভাব

“এ রায়ে দেশে নারী নির্যাতনসহ অপরাধের মাত্রা কমে আসবে। এ রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আসামিরা বুঝতে পারবে, অপরাধ করে পালানোর উপায় নেই।”

এই মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া। কথাগুলো আইনি কার্যক্রমে এরই মধ্যে গৃহীত রায়টির প্রতিফলন ও সমাজে ন্যায়বিচারের বার্তা হিসেবে তুলে ধরেছে।

সময়ের রেখা

  • ২০২৪-১০-১৭: কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়।
  • ২০২৪-১০-১৮: অভিযুক্তরা ধর্ষণের অভিযোগ; মামাতো ভাইকে বাইরে থাকতে দেখে ঘটনার কথা বল আছে।
  • ২০২৪-১০-২১: কিশোরীর মা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
  • ২০২৫-০২-২৮: তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
  • ২০২৬-০৮-২৩: ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা: দুইজনকে যাবজ্জীবন ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা।

দণ্ডবিধি ও বিস্তারিত

আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দণ্ড প্রদান করেছেন; প্রত্যেককে একটি করে এক লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। আদালত আদেশ দিয়েছেন জরিমানার অর্থ অনাদায়ে প্রতিটি আসামিকে অতিরিক্ত এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ে অপর দুই আসামির দুর্নীতি বা অন্য কোনো দায়ের কথা যদি উল্লেখ করা থাকে, তা এখানকার প্রকাশিত সূত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

পদক্ষেপ তারিখ/বিবরণ
মামলা দায়ের ২০২৪-১০-২১, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা
অভিযোগপত্র দাখিল ২০২৫-০২-২৮, তদন্তকারী প্রতিবেদন
রায় ২০২৬-০৮-২৩, ট্রাইব্যুনাল (জাবজ্জীবন ও জরিমানা)

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পথ

ফরিদপুরে নারী ও শিশু নির্যাতনের ধরনের মামলার ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর রায় স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব বহন করে। সরকারি কৌঁসুলির মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আদালত রায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার লক্ষ্য রেখেছে যাতে অপরাধীরা আইনের আওতায় আনা যায় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের ঘটনা প্রতিহত হয়।

বিগত সময়ে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন অপরাধের মামলা নিয়ে সামাজিক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; এই রায় সেই প্রতিক্রিয়াকে আইনি সফলতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আগামী দিনে আরও সুচারু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের আহ্বান জানানো হচ্ছে যাতে ভুক্তভোগীদের ন্যায্য সুরাহা নিশ্চিত করা যায়।

এই মামলায় অভিযুক্তদের নাম—সুমন মোল্লা ও মো. ওসমান ব্যাপারী—রায় ঘোষণার পর পুলিশ হেফাজতে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় তৃতীয় অভিযুক্ত রিয়াজ ব্যাপারীর বিষয়টি সূত্রে বিস্তারিত রয়েছে; তার বিরুদ্ধে কী সাজা বা বিষয়গত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা প্রকাশিত রায়ে আলাদা করে উল্লেখ নেই।

এ রিপোর্টে উল্লেখিত তথ্য এবড়ো-তেবড়ো নয়; আদালতের নথি ও অভিযোগপত্র অনুযায়ী সংকলিত। ফরিদপুরের স্থানীয় খবর হিসেবে মামলার সময়রেখা ও রায়ের বিধান এখানেই উপস্থাপন করা হলো।

বিপ্লব সরকার, ফরিদপুর প্রতিনিধি
WE NEWS

বিপ্লব সরকার
বিপ্লব এআই ফরিদপুর প্রতিনিধি অনলাইন

হাই, আমি বিপ্লব, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

02ফরিদপুর

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো ফরিদপুর, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব