নোয়াখালী জেলায় বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জেলার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি গ্রাহকরা বর্তমানে গ্যাসবিহীন অবস্থায় রয়েছে। সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রায় ২৯,৩৫০ গ্রাহক এবং সাতটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন।
ব্যাপ্তি ও প্রাথমিক প্রভাব
স্থানীয় গ্যাস সরবরাহকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাখরাবাদ এলাকার আওতায় বুধবার দুপুর থেকে নোয়াখালীর সব ধরনের গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে গত সপ্তাহে জেলায় চাপ কমার শিকড় দেখা গেলেও সেই সময় সীমিতভাবে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। বুধবার দুপুরের পর সেই সীমিত সরবরাহও বন্ধ বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে আবাসিক গ্রাহকরা—রান্নাবান্না বন্ধ হওয়া, দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়া সহ ঘরগৃহস্থালির নানা অসুবিধা দেখা দিয়েছে। ভবষ্যৎ ব্যবসা ও রেস্টুরেন্টগুলোর কার্যক্রমও সমানভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
লোকাল অভিজ্ঞতা
মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন,
"গত কয়েকদিন গ্যাসের চাপ কম থাকলেও দিনের কোনো একসময় চুলায় সামান্য গ্যাস পাওয়া যেত। তবে বুধবার দুপুর থেকে একেবারেই গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।"
অনেক পরিবারকে এখন বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা খরচ বাড়ায় এবং প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
ব্যবসায়িক প্রভাব ও সিএনজি সংকট
হোটেল ও রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল; বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় রান্না ও পরিবেশন ব্যাহত হয়েছে। বিশেষত সিএনজি স্টেশনগুলো সরাসরি সমস্যার মুখোমুখি—জেলা জুড়ে সাতটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন গ্যাস সরবরাহে নির্ভরশীল।
- প্রতিদিন জেলার গড় গ্যাস চাহিদা: ১৬–১৭ মিলিয়ন ঘনফুট
- প্রভাবিত গ্রাহক (মোট রিপোর্ট): ২৯,৩৫০
- আবাসিক গ্রাহক (আনুমানিক): প্রায় ২৯,০০০
- বাণিজ্যিক গ্রাহক: ৩৫০
- সিএনজি ফিলিং স্টেশন: ৭টি
কী জানালো কর্তৃপক্ষ?
সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কখন থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্যাসের চাপ কম থাকার সময় কিছু এলাকায় স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ চালু রাখা হয়েছিল, কিন্তু বুধবার দুপুরের পর সেই ব্যবস্থাও কার্যকর ছিল না।
অতিরিক্ত কোনো তথ্য, যেমন ত্রুটির প্রকৃতি বা মেরামতের আনুমানিক সময় এখনও স্থানীয় অফিস থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রাহকরা অনিশ্চিত অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের করণীয়
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্যাস সরবরাহকারীকে দ্রুত পরিস্কার তথ্য জানাতে হবে—কখন থেকে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরবে, কোন এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকারে সরবরাহ করা হবে এবং জরুরি সেবাবাহিতাগুলোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কেমন থাকবে। গ্রাহকরা পার্শ্ববর্তী দোকান-ব্যবসায় কিংবা হোটেলে থাকার সময় খাবার ও অন্যান্য অপরিহার্য কাজের জন্য বিকল্প জ্বালানি ও প্রস্ততি নিন।
| নথিভূক্ত বিষয় | মান / অবস্থা |
|---|---|
| দৈনিক গ্যাস চাহিদা | ১৬–১৭ মিলিয়ন ঘনফুট |
| মোট প্রভাবিত গ্রাহক | ২৯,৩৫০ (প্রায়) |
| সিএনজি স্টেশন | ৭টি |
প্রশ্ন থেকে যায়—এ ধরনের হঠাৎ বন্ধ পরিস্থিতিতে জরুরি পরিষেবা এবং গাড়ি চলাচল কিভাবে প্রভাবিত হবে? সিএনজি স্টেশনগুলোর বন্ধ থাকা অরাজকতা সৃষ্টি করলে পরিবহন ও পোস্টাল সার্ভিসেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্থানীয়দের দ্রুত এবং স্বচ্ছ তথ্য না দেয়াই উৎকণ্ঠাকে বাড়াচ্ছে।
এই ঘটনায় সরকারি কর্তৃপক্ষ ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়ার চেষ্টা চলছে; তাদের বক্তব্য ও অবস্থার আপডেট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঠকদের জানানো হবে।
দিদারুল আলম, নোয়াখালী প্রতিনিধি