নোয়াখালীর পৌরসভার পশ্চিম মাইজদী এলাকায় মাদকের প্রভাব, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধে বিতর্কিত নয় এমন এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মসজিদে টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করায় ১৭ জন শিশু-কিশোরকে বাইসাইকেল উপহার দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে।
উদ্যোগের আয়োজন ও প্রতিযোগিতার রূপ
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজের পর স্থানীয় সমাজের উদ্যোগে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন নোয়াখালী পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীরূপে পরিচিত ব্যবসায়ী আলহাজ মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। ইমামের হাজিরা খাতার রেকর্ড অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী মোট ৪২ জন শিশুকিশোর এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন; তাদের মধ্যে ১৭ জনই নিয়মিতভাবে ৪০ দিন নামাজ জামাতে উপস্থিত থাকার মাপকাঠি পূরণ করেন। ওই ১৭ জনকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে পরে বাইসাইকেল উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্দেশ্য ও প্রতিক্রিয়া
উদ্যোগের পক্ষে বক্তব্য রাখা হয় যে সমাজে মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সন্তানেরা যাতে প্রগতিশীল ও সঠিক পথে ফিরে আসে সে লক্ষ্যেই এ ধরনের কার্যক্রম জরুরি। আয়োজনের সময় হারুন অর রশিদ বলেন, “সমাজে মাদক, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের ভালো উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।”
“এ ধরনের ভালো উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। স্থানীয়রা জানায়, পুরস্কারের অর্থনৈতিক মূল্য কম-বেশি যাই হোক না কেন, এমন মানসিক উৎসাহ কিশোরদের নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াসকে শক্তিশালী করে।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?
নোয়াখালীর অনেক এলাকায় কিশোরদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা সীমিত। বিনোদন কিংবা নেতিবাচক চাহিদা মেটানোর পথ হিসেবে মাদক ও আভ্যন্তরীণ গ্যাং সংস্কৃতি প্রবল হচ্ছে—এমন উদ্বেগ স্থানীয়দের কাছে আছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নামাজে নিয়মিত অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয় একটি সামাজিক হাতিয়ার হিসেবে।
- অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা: মোট ৪২ জন প্রতিদ্বন্দ্বী, পুরস্কার প্রাপ্ত ১৭ জন।
- উদ্দেশ্য: কিশোরদের মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখা ও তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।
- সাহায্যকারীরা: স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং মসজিদ-সম্পর্কিত ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় বসবাসকারীদের অনেকে মনে করেন, সাময়িক পুরস্কার দিয়ে নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করানো হলে কিশোর-কিশোরীরা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিকভাবে ইতিবাচক আচরণ গঠন করতে পারবে। আবার কিছু পর্যবেক্ষক বলে থাকেন, কেবল ধর্মীয় অনুশীলনই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে শিক্ষা, খেলাধুলা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ যোগ করা দরকার যাতে বিকল্প পথগুলোও তৈরি হয়।
তথ্যের সারণি
| বিষয় | সংখ্যা/বিবরণ |
|---|---|
| অংশগ্রহণকারীর মোট সংখ্যা | ৪২ |
| পুরস্কারপ্রাপ্ত কিশোর | ১৭ |
| প্রতিযোগিতার সময়কাল | টানা ৪০ দিন |
এ ঘটনার পর কী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—স্থানীয় নেতৃত্ব কীভাবে এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিময়ে রূপান্তর করবেন—এগুলোর উত্তরের অপেক্ষা এখনও। তবে বর্তমানে মসজিদকে কেন্দ্র করে এমন ধরণের কার্যক্রম কিশোরদের কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রিপোর্টে প্রদত্ত তথ্য স্থানীয় আয়োজকদের বক্তব্য ও মসজিদের হাজিরা খাতার তথ্যানুযায়ী সংগৃহীত; আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের প্রণোদনা সম্প্রদায়ের যুবসমাজকে প্রগতিশীল পথে নিয়ে আসবে।