নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী এলাকায় গত বুধবার গভীর রাতে এক নারীকে (৩০) অপহরণ করার চেষ্টায় র্য়াজঠাঁস নকশায় অভিযান চালানোর অভিযোগে ওই নারীর সাবেক স্বামীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের কাছ থেকে পুলিশ জব্দ করেছে সিআইডির চারটি ইউনিফর্ম, তিনটি সাধারণ ইউনিফর্ম ও একটি নোহা গাড়ি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত শুভ চৌধুরীর সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়েছিল ২০২৩ সালে। বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি। বিচ্ছেদের পর থেকে, সূত্রগুলো বলছে, শুভ বিভিন্নভাবে তার সাবেক স্ত্রীর কাছে হুমকি-ধামকি দিচ্ছিলেন। অভিযোগের ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে শুভ ও সহযোগীরা সিআইডির ইউনিফর্ম ও ওয়াকিটকি নিয়ে মাইজদী বসুন্ধরা কলোনির ওই নারীসহ পরিবারের বাসায় যান এবং পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
রহস্যজনক প্রবেশ ও অপহরণের চেষ্টা
প্রতিবেশী ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বর্ণনায়, তারা 'মামলার তদন্ত' জানিয়ে প্রবেশের محاولة করেন। এরপর রিকল দেখানোর নাম করে ভেতরে ঢুকে ভুক্তভোগীর কক্ষে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তখন পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে গেট বন্ধ করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। কল পেয়ে পুলিশ এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে ওই সাতজনকে আটকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
- আটক সংখ্যা: ৭ জন
- জব্দকৃত সামগ্রী: সিআইডির ৪টি ইউনিফর্ম, ৩টি সাধারণ ইউনিফর্ম, ১টি নোহা গাড়ি
- ঘটনার স্থান: মাইজদী বসুন্ধরা কলোনি, নোয়াখালী জেলা শহর
আটক ব্যক্তিদের পরিচয়
| নাম | বয়স | ঠিকানা/উৎস |
|---|---|---|
| শহীদুল ইসলাম শুভ চৌধুরী | ৩২ | লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আটিয়াতলী |
| রুবেল হোসেন | ২৯ | চররুহিতা |
| জাহাঙ্গীর আলম | ২৮ | রাজশাহী, মাড়িয়া |
| আবুল কাশেম সোহেল | ৩৮ | বগুড়া, ওন্দারহাট |
| শাহাদাত হক খান চৌধুরী | ২৯ | চট্টগ্রাম, উত্তর হাইটকান্দি |
| নাদির | ২৯ | ফেনীর পরশুরাম, শুভার বাজার |
| শরীফ মিয়া | ৫৫ | ঢাকা, বংশাল |
স্থানীয় সুধারাম মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বাবা আতাউর রহমান বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। বন্দি আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রশ্ন ওঠে—কোনভাবে আইনের পোশাক ব্যবহার করে অপরাধ বেড়েই চলেছে?
এই ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, সরকারি বা তদন্ত সংস্থার পোশাক-চিহ্ন ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের অকথ্যভাবে ভয়ভীতি দেখানো ও নারীর ওপর জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ভাবনাকে জর্জরিত করছে। প্রশ্ন হচ্ছে—কোন সূত্রে এসব ইউনিফর্ম ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হলো এবং কেন আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি? এরপরও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার উপাদান ও গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্ত শক্তি কীভাবে নিশ্চিত করবে যে ভবিষ্যতে কোনো ভুয়া পরিচয়ধারী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না—এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর আলোচনা শুরু হয়েছে। মাইজদীর সাধারণ মানুষ চান দ্রুত ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা বিধান করা হোক।
ঘটনার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম ও তদন্তের ফলাফল জানা গেলে এখান থেকে বিস্তারিত জানানো হবে। এই রিপোর্ট স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি বিবরণ নির্ভর করে প্রস্তুত করা হয়েছে।